লেটেস্ট নিউজ

রেশন কি অতীত? চাল-গমের বদলে এবার ব্যাংকে টাকা দেওয়ার পথে মোদি সরকার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে কি রেশন ব্যবস্থা চিরতরে বন্ধ হতে চলেছে? নরেন্দ্র মোদি সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে এমনই আশঙ্কার মেঘ দানা বাঁধছে। চাল-গমের পরিবর্তে এবার রেশন গ্রাহকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা (DBT) পাঠানোর তোড়জোড় শুরু করেছে কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে খাদ্যমন্ত্রককে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে— রেশন খাতে খরচ কমাতেই হবে।

রেশনের বদলে নগদ: কেন এই পথে কেন্দ্র?

২০২৪-এর লোকসভা ভোটের আগে মোদি ঘোষণা করেছিলেন আগামী ৫ বছর বিনামূল্যে রেশন দেওয়ার কথা। কিন্তু ১১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল আর্থিক বোঝা এখন সরকারের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই গ্রাহক সংখ্যা ছাঁটাই করতে এবং খরচ বাঁচাতে খাদ্যশস্যের বদলে নগদ টাকা বা ‘ই-রুপি’ ভাউচার দেওয়ার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র। ইতিমধ্যেই চণ্ডীগড়, পুদুচেরি ও মহারাষ্ট্রের কিছু অংশে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

নজরদারিতে ‘ই-রুপি’

জালিয়াতি রুখতে স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার তৈরি ডিজিটাল কারেন্সি ‘ই-রুপি’ ব্যবহার করার কথা ভাবা হচ্ছে। গ্রাহকের মোবাইলে নির্দিষ্ট মেয়াদের ভাউচার পাঠানো হবে। এর ফলে দিল্লি থেকেই ট্র্যাক করা যাবে কে, কতটুকু খাদ্যশস্য কিনছেন। আগামী এক বছরের মধ্যে এটি সারা দেশে কার্যকর করার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হয়ে গিয়েছে।

ডিলারদের ঘোর আপত্তি

এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে ‘অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশন’। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু বলেন, “মোদির এই সিদ্ধান্তে ডিলারদের পেটে লাথি পড়বে। এছাড়া গ্রাহক ওই টাকা দিয়ে চাল-গমই কিনবেন কি না, তার কোনো গ্যারান্টি নেই।”

ডুপ্লিকেট কার্ডের হদিস: বিপাকে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ রাজ্য

রেশন গ্রাহক কমাতে গিয়ে আয়কর এবং আধার তথ্য যাচাই করতেই সামনে এসেছে বিস্ফোরক তথ্য। দেশজুড়ে প্রায় ৭৬ হাজার ৩৬৩টি ডুপ্লিকেট রেশন কার্ড পাওয়া গিয়েছে। মজার বিষয় হলো, এই জালিয়াতির তালিকার শীর্ষে রয়েছে বিজেপি শাসিত ‘ডাবল ইঞ্জিন’ রাজ্যগুলি। যোগীরাজ্য উত্তরপ্রদেশ একাই ৩০ হাজার ২৪৮টি ভুয়া কার্ড নিয়ে শীর্ষে। এছাড়াও হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানেও ব্যাপক জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে।

সরকার বলছে দুর্নীতি রুখতেই এই কড়াকড়ি, কিন্তু বিরোধীদের মতে এটি আসলে গরিবের খাবারের অধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রথম ধাপ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *