রেশন তালিকায় এবার বড়সড় রদবদল, বহু নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কায় গ্রাহকরা

রেশন তালিকায় এবার বড়সড় রদবদল, বহু নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কায় গ্রাহকরা

ভোটার তালিকার পর এবার রেশন কার্ড গ্রাহকদের তালিকা সংশোধনে বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে কেন্দ্র। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশজুড়ে রেশন গ্রাহকদের নাম নতুন করে নথিভুক্ত করা হবে। তবে এর আগে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে যে ধরনের বড়সড় ত্রুটি সামনে এসেছিল, তার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মনে। প্রশ্ন উঠছে, এই নয়া প্রক্রিয়ার জেরে কি বিপুল সংখ্যক উপভোক্তার নাম রেশন তালিকা থেকে বাদ পড়তে চলেছে!

‘সার্থক রেশন প্রকল্প’ ও কেন্দ্রের লক্ষ্য

কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, দেশের প্রায় ৮০ কোটি মানুষকে রেশন দেওয়ার এই প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করতেই সম্পূর্ণ নতুন তালিকা তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় ‘সার্থক রেশন প্রকল্প’ অনুমোদিত হয়েছে, যার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ২৫ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ৩১ মার্চ ২০৩১ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের মেয়াদে এই প্রকল্প চালানো হবে। সরকারের দাবি, কোনো প্রকৃত গরিব মানুষ যেন রেশন থেকে বাদ না পড়েন এবং অপাত্রে যেন সরকারি সুবিধা না যায়, তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর স্ক্রিনিং বা ছাঁটাই প্রক্রিয়া চালানো হবে।

খরচ সাশ্রয় ও সম্ভাব্য প্রভাব

নতুন এই প্রকল্পে এআই মডিউল যুক্ত করার মাধ্যমে সরকারের বছরে প্রায় ২৮০ কোটি টাকা বাঁচানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া, রাজ্যগুলির খাদ্য সংরক্ষণ কেন্দ্র থেকে রেশন দোকানে খাদ্যপণ্য পৌঁছানোর পরিকাঠামো উন্নত করতে এবং এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে খাদ্যশস্যের পরিবহন মসৃণ করতে রাজ্যগুলিকে আর্থিক সাহায্য দেবে কেন্দ্র। এর ফলে বাজারে বা রেশন দোকানে খাদ্যের জোগানে কোনো সংকট হবে না।

রেশন ডিলারদের অসন্তোষ

এই প্রকল্পের পাশাপাশি রেশন ডিলারদের বহুদিনের দাবি মেনে তাঁদের কমিশন বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। তবে কেন্দ্রের এই ঘোষণাতেও পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেনি রেশন ডিলারদের সংগঠনগুলি। সামগ্রিকভাবে, প্রযুক্তি নির্ভর এই নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে ভুয়ো রেশন কার্ড চিহ্নিত করা সম্ভব হলেও, প্রযুক্তির যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গ্রামীণ ও প্রান্তিক স্তরের বহু প্রকৃত অভাবী মানুষ তাঁদের খাদ্য সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *