রেশন দুর্নীতির সিংহভাগ টাকা গেছে খোদ কালীঘাটে! ভবানীপুরে বিস্ফোরক শুভেন্দু – এবেলা

রেশন দুর্নীতির সিংহভাগ টাকা গেছে খোদ কালীঘাটে! ভবানীপুরে বিস্ফোরক শুভেন্দু – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্য রাজনীতিতে রেশন দুর্নীতি ইস্যু ফের উত্তাল হয়ে উঠেছে। শনিবার সকালে যখন ইডি হাবড়া ও বর্ধমানসহ ৯টি জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে ভবানীপুরে দাঁড়িয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, রেশন দুর্নীতির ১০ হাজার কোটি টাকার অন্তত ৭৫ শতাংশ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছেছে। জেলবন্দি প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের পরেই শুভেন্দুর এই সরাসরি আক্রমণ রাজনৈতিক মহলে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

তদন্তে উঠে আসা পাচার ও দুর্নীতির নয়া ছক ইডি-র সাম্প্রতিক অভিযানে সরকারি গম পাচারের এক অভিনব কৌশল সামনে এসেছে। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, এফসিআই এবং রাজ্য সরকারের সিলমোহর দেওয়া বস্তা থেকে কৌশলে সরকারি গম বের করে নেওয়া হতো। সেই গম ভরা হতো সাধারণ সাদা বস্তায়, যা পরবর্তীতে খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রি কিংবা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাচার করা হতো। প্রভাবশালী নেতা, সরবরাহকারী ও দালালদের একটি বিশাল চক্র এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের রেশন লুট করেছে বলে অভিযোগ ইডির।

রাজনৈতিক সংঘাত ও সম্ভাব্য প্রভাব সম্প্রতি হাবড়ার জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন যে, বাম আমলের ভুয়া কার্ড বাতিল করার কারণেই আক্রোশবশত জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে ফাঁসানো হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সংস্থার ধারাবাহিক তৎপরতা এবং সরাসরি ‘কালীঘাট সংযোগ’-এর অভিযোগ শাসকদলকে নতুন করে রাজনৈতিক চাপের মুখে ফেলেছে। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে দুর্নীতির এই মেরুকরণ ভোটারদের জনমতের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এক ঝলকে

  • রেশন দুর্নীতির ৭৫ শতাংশ টাকা মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে যাওয়ার বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দু অধিকারীর।
  • সরকারি গম সাধারণ বস্তায় ভরে খোলা বাজারে ও বাংলাদেশে পাচারের তথ্য পেয়েছে ইডি।
  • হাবড়া ও বর্ধমানসহ রাজ্যের মোট ৯টি জায়গায় ম্যারাথন তল্লাশি চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
  • ১০ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *