রোজ ভাতের পাতে কাঁচা পিঁয়াজ খাচ্ছেন? অজান্তেই ডেকে আনছেন মারাত্মক বিপদ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বাঙালি থেকে শুরু করে সাধারণ ভোজনরসিক মানুষের কাছে ভাত, রুটি কিংবা ফাস্ট ফুডের সঙ্গে এক টুকরো কাঁচা পিঁয়াজ একটি অত্যন্ত পরিচিত অনুষঙ্গ। আপাতদৃষ্টিতে এই সাধারণ খাদ্যাভ্যাসটি নির্দোষ মনে হলেও চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন যে, নিয়মিত অতিরিক্ত কাঁচা পিঁয়াজ খাওয়ার প্রবণতা শরীরে একাধিক জটিল রোগের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা নিয়মিত বিভিন্ন রোগের ওষুধ সেবন করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই অভ্যাস নীরব ঘাতক হয়ে উঠতে পারে।
হজম থেকে মাইগ্রেন, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি
কাঁচা পিঁয়াজে থাকা ‘ফ্রুক্টান’ নামক বিশেষ কার্বোহাইড্রেট অনেকের জন্যই হজম করা বেশ কঠিন। এর ফলে পেট ফাঁপা, গ্যাস বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়, যা আইবিএস (IBS) রোগীদের জন্য বিশেষ কষ্টদায়ক। এছাড়া কাঁচা পিঁয়াজ খাদ্যনালীর পেশীকে শিথিল করে দেওয়ায় পাকস্থলীর অ্যাসিড সহজেই উপরে উঠে আসে এবং তীব্র বুক জ্বালাপোড়া বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সৃষ্টি করে। এর পাশাপাশি পিঁয়াজে উপস্থিত ‘টাইরামিন’ উপাদানটি মাইগ্রেনের রোগীদের ক্ষেত্রে তীব্র মাথাব্যথার কারণ বা মাইগ্রেন অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। অনেকের আবার কাঁচা পিঁয়াজ থেকে অ্যালার্জিজনিত সমস্যা যেমন ত্বকে চুলকানি, ঠোঁট ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা যায়।
ওষুধের কাজে বাধা ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যা
নিয়মিত কাঁচা পিঁয়াজ খাওয়ার অন্যতম বিপজ্জনক প্রভাব পড়ে ওষুধের কার্যকারিতার ওপর। কাঁচা পিঁয়াজে মৃদু ‘ব্লাড থিনিং’ বা রক্ত পাতলা করার বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এর ফলে যাঁরা নিয়মিত ডায়াবেটিসের ওষুধ খান, কাঁচা পিঁয়াজ তাঁদের ওষুধের কার্যকারিতায় সরাসরি বাধা সৃষ্টি করে। এই কারণেই চিকিৎসকরা অনেক সময় ওষুধ চলাকালীন কাঁচা পিঁয়াজ খেতে নিষেধ করেন। এছাড়া পিঁয়াজে থাকা উচ্চমাত্রার সালফার রক্তে মিশে ফুসফুসের মাধ্যমে বেরিয়ে আসে, যার ফলে মুখে দীর্ঘস্থায়ী দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। কাঁচা পিঁয়াজের রস মাড়িতে জ্বালাপোড়া তৈরি করে এবং দাঁতের ফাঁকে ডেন্টাল প্লাক জমিয়ে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটাতে পারে। তাই রোজকার খাবারে কাঁচা পিঁয়াজের পরিমাণ সম্পর্কে সচেতন হওয়া এখন সময়ের দাবি।
