লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে কি এবার ৩০০০ টাকা? অন্নপূর্ণাকে টেক্কা দিতে মে মাসেই কি বড় চমক দেবেন মমতা?

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক লড়াই এখন মহিলাদের আর্থিক অনুদান প্রকল্পের ওপর কেন্দ্রীভূত হয়েছে। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর একচেটিয়া আধিপত্যে ভাগ বসাতে বিজেপি নিয়ে এসেছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর প্রতিশ্রুতি। যেখানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বর্তমানে সর্বোচ্চ ১৭০০ টাকা দেওয়া হচ্ছে, সেখানে বিজেপি ক্ষমতায় এলে প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেছে। এই বিশাল অঙ্কের ভাতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মহিলা ভোট ব্যাংক নিজেদের দিকে টানাই এখন গেরুয়া শিবিরের প্রধান লক্ষ্য।
টাকার লড়াই ও রাজনৈতিক কৌশল
বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই প্রকল্পকে সামনে রেখে ব্যাপক জনমত গঠনের চেষ্টা করছেন। দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহিলাদের বিজেপি সদস্য করতে এবং অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা বোঝাতে। বিজেপির লক্ষ্য এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় এক কোটি মহিলা সদস্য সংগ্রহ করা। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘোষণাকে ‘মিথ্যা প্রতিশ্রুতি’ বলে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন। তৃণমূলের দাবি, বিজেপি শাসিত অন্য কোনো রাজ্যে এমন প্রকল্প নেই, তাই এটি নিছকই নির্বাচনী ভাঁওতাবাজি।
অর্থনৈতিক প্রভাব ও ভোটের সমীকরণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের প্রায় ২.২১ কোটি মহিলা ভোটার যে কোনো নির্বাচনের গতিপথ নির্ধারণে সক্ষম। তবে বিজেপির এই ৩০০০ টাকার প্রতিশ্রুতি কার্যকর করতে গেলে বছরে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থের প্রয়োজন হবে, যা রাজ্যের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিকাঠামোয় বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তা সত্ত্বেও, কর্ণাটক বা দিল্লির মডেলে বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধা দিয়ে ভোটারদের মন জয় করার কৌশলে এবার বাংলাতেও জোর দিচ্ছে বিজেপি। শেষ পর্যন্ত লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ধারাবাহিকতা নাকি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের উচ্চতর প্রতিশ্রুতি জয়ী হয়, তা সময়ই বলবে।
এক ঝলকে
- লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পাল্টা হিসেবে মাসে ৩০০০ টাকা ভাতার ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি।
- বিজেপি ক্ষমতায় এলে মে মাস থেকে সরকার গঠন ও জুন থেকে টাকা দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে।
- তৃণমূল নেত্রী এই প্রতিশ্রুতিকে ভোট পাওয়ার কৌশল ও ‘মিথ্যা প্রতিশ্রুতি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
- রাজ্যের ২.২১ কোটি মহিলা ভোটারকে লক্ষ্য করে দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে প্রকল্পের লড়াই তুঙ্গে।
