লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি, সিট গঠনের কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর – এবেলা

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি, সিট গঠনের কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ এর টাকা সরাসরি চলে যাচ্ছে ভুয়ো অ্যাকাউন্টে, আর এই বেনিয়ম রুখতে এবার কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, পূর্বতন সরকারের আমলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের অর্থ বন্টনে ব্যাপক নয়ছয় হয়েছে। এই বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্তে নেমে পুলিশ প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হওয়ার বার্তা দিয়ে রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল বা ডিজিপি-কে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

পুরুষদের অ্যাকাউন্টে মহিলাদের টাকা, দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য

তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। জানা গেছে, মহিলাদের জন্য বরাদ্দ এই প্রকল্পের টাকা বেআইনিভাবে ঢুকেছে পুরুষদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। উদাহরণস্বরূপ, মুস্তাফিজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী মিলে মোট ১৫টি অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলছেন। অন্যদিকে, তারিকুল রহমান নামের এক ব্যক্তির ৬টি এমন ভুয়ো অ্যাকাউন্ট রয়েছে। প্রশাসনের প্রাথমিক অনুমান, এই ধরনের জালিয়াতির পেছনে বড় কোনো চক্র কাজ করছে। এখনও পর্যন্ত ২২টি এই ধরনের ভুয়ো অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করা সম্ভব হলেও, আগামী দিনে এই সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাজকোষের হাজার কোটি টাকা লুঠ, চালু হচ্ছে অন্নপূর্ণা যোজনা

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো অ্যাকাউন্টে মাসের পর মাস লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি অ্যাকাউন্টে ১৫০০ টাকা করে হিসেব ধরলে প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ অপচয় হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে হাজার হাজার কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারির সমান। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এবং পুরুষ উপভোক্তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত এই ৩০ লক্ষ ভুয়ো নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। এই শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়ার পরেই রাজ্য সরকার তার নতুন ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ শুরু করতে চলেছে, যাতে প্রকৃত অভাবী মানুষেরা সরাসরি সরকারি সহায়তার সুবিধা পান এবং রাজকোষের টাকার অপচয় বন্ধ করা যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *