লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ২২ লক্ষ নামের গরমিল, অন্নপূর্ণার কড়া স্ক্রিনিং ঘিরে দানা বাঁধছে নতুন বিতর্ক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পূর্বতন সরকারের ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ রূপান্তর হতে চলেছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এ। তবে এই রূপান্তর প্রক্রিয়ার শুরুতেই উপভোক্তাদের সংখ্যা নিয়ে বড়সড় গরমিল ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পূর্বতন সরকারের দেওয়া হিসাবের সঙ্গে বর্তমান সরকারের পরিসংখ্যানের অমিল এবং তালিকা থেকে প্রায় ২২ লক্ষ নাম নিখোঁজ হওয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
তালিকার গরমিল ও নতুন বিতর্ক
পূর্বতন তৃণমূল সরকারের শেষ অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট ও প্রশাসনিক দাবি অনুযায়ী, রাজ্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপকের মোট সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৪২ লক্ষ। কিন্তু বর্তমান বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন ২ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ। নতুন প্রশাসনের এই হিসাবের জেরে শুরুতেই ২২ লক্ষ উপভোক্তার অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যার কোনো সদুত্তর এখনো মেলেনি। বর্তমান সরকারের স্ক্রিনিং প্রক্রিয়ায় আরও ৩০ লক্ষ ভুয়ো ও অবৈধ প্রাপকের নাম বাদ পড়তে চলেছে বলে জানানো হয়েছে, যার মধ্যে বহু পুরুষ উপভোক্তার নামও রয়েছে। চূড়ান্ত যাচাইয়ের পর বর্তমানে ১ কোটি ৯০ লক্ষ উপভোক্তা এই সুবিধার আওতায় আসতে পারেন।
স্ক্রিনিং-এর প্রভাব ও ভবিষ্যৎ প্রক্রিয়া
নতুন সরকার স্পষ্ট করেছে যে, পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বন্ধ করা হবে না। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ১৫০০ টাকার পরিবর্তে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা দেওয়া হবে। তবে কোনো ভুয়ো, মৃত বা অবৈধ ব্যক্তি যাতে এই সুবিধা না পান, তার জন্য কঠোর স্ক্রিনিং-এর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর জন্য উপভোক্তাদের ১২ পাতার একটি বিস্তারিত আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে, যেখানে পরিবারের সমস্ত তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হবে।
এই যাচাইকরণ প্রক্রিয়া চলাকালীন আগামী তিন মাস উপভোক্তারা আগের নিয়মেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের দেড় হাজার টাকা করে পাবেন। স্ক্রিনিং সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে যোগ্য উপভোক্তারা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের দ্বিগুণ আর্থিক সুবিধা পাবেন। নবান্ন সূত্রে খবর, তথ্য ঝাড়াই-বাছাইয়ের কাজ শেষ হলেই রাজ্যে ঠিক কতজন এই নতুন প্রকল্পের সুবিধা পাবেন, তা সম্পূর্ণ পরিষ্কার হবে।
