লক্ষ্মীর ভাণ্ডার অতীত, আজ থেকেই শুরু অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন, জেনে নিন কীভাবে মিলবে মাসে ৩,০০০ টাকা – এবেলা

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার অতীত, আজ থেকেই শুরু অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন, জেনে নিন কীভাবে মিলবে মাসে ৩,০০০ টাকা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গের সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্পের ইতিহাসে এক বড়সড় পরিবর্তনের সূচনা ঘটিয়ে ১ জুন, ২০২৬ থেকে রাজ্যজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো নতুন প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের অন্যতম ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর পরিবর্তে এই নতুন প্রকল্প নিয়ে এলো বর্তমান বিজেপি সরকার। নারীদের আর্থিক ক্ষমতায়ন ও স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে এই নতুন প্রকল্পে ভাতার পরিমাণ একধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ১ জুন থেকেই রাজ্যজুড়ে এই প্রকল্পের জন্য ৯০ দিনের একটি বিশেষ নথিভুক্তি বা এনরোলমেন্ট ড্রাইভ শুরু হচ্ছে।

ভাতার ফারাক ও কঠোর যাচাইকরণ

২০২১ সালের আগস্ট মাসে চালু হওয়া লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে সাধারণ বিভাগের মহিলারা ১,০০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতি (SC/ST) মহিলারা ১,২০০ টাকা পেতেন। তবে নতুন অন্নপূর্ণা যোজনায় সমস্ত যোগ্য মহিলাই জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে প্রতি মাসে সরাসরি তাঁদের আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা করে পাবেন। ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT) ব্যবস্থার মাধ্যমে এই টাকা পাঠানো হবে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার মূলত অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া সমস্ত পরিবারের মহিলাদের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও, অন্নপূর্ণা যোজনায় উপভোক্তা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে স্ক্রিনিং বা ছাঁটাইয়ের নিয়ম অনেক বেশি কঠোর করা হয়েছে। আয়কর দাতা বা সরকারি চাকরিজীবীদের এই প্রকল্পের বাইরে রাখা হয়েছে। তবে সরকার আশ্বস্ত করেছে যে, এই রূপান্তর বা ট্রানজিশন পিরিয়ডে বর্তমান লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তারা টাকা পাওয়া বন্ধ করবেন না; সঠিক যাচাইকরণের পর তাঁদের এই নতুন প্রকল্পে স্থানান্তরিত করা হবে।

আবেদনের যোগ্যতা ও পদ্ধতি

সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেতে গেলে আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং বয়স হতে হবে ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। আবেদনকারী কোনওভাবেই আয়কর দাতা, স্থায়ী বা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী, কিংবা সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা অশিক্ষক কর্মী হতে পারবেন না। এই প্রকল্পের জন্য অনলাইন এবং অফলাইন— দুই মাধ্যমেই আবেদনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সরকারি সোশ্যাল সিকিউরিটি পোর্টাল থেকে ইংরেজি, বাংলা ও হিন্দি ভাষায় ফর্ম ডাউনলোড করে এবং তা স্ক্যান করে আপলোড করা যাবে। এ ছাড়া পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং স্থানীয় সরকারি অফিসে অফলাইনে আবেদন জমা দেওয়া যাবে। আগামী ১৫ জুন থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে বিশেষ ‘জনকল্যাণ শিবির’ বা ক্যাম্পের আয়োজন করা হচ্ছে, যেখান থেকেও নাম নথিভুক্ত করা যাবে।

প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও কড়া নজরদারি

দ্রুত অ্যাকাউন্টে টাকা পেতে আবেদনকারীদের আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, ব্যাঙ্কের পাসবইয়ের কপি, পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং বাসস্থানের শংসাপত্র বা ঠিকানার প্রমাণপত্র হাতের কাছে প্রস্তুত রাখতে হবে। আবেদনপত্রে আধার নম্বর, ভোটার আইডি, প্যান কার্ডের বিবরণ, বার্ষিক পারিবারিক আয়, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সম্পূর্ণ তথ্য এবং আয়কর বা প্রফেশনাল ট্যাক্স দেওয়া হয় কিনা তার বিবরণ দিতে হবে। নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তর এই প্রকল্প রূপায়ণের নোডাল এজেন্সি হিসেবে কাজ করছে। শুধুমাত্র স্ব-ঘোষণার ওপর ভিত্তি করে এই প্রকল্পের টাকা দেওয়া হবে না। আবেদনপত্র জমা পড়ার পর গ্রামীণ এলাকায় বিডিও (BDO) এবং শহর এলাকায় এসডিও (SDO)-এর নেতৃত্বাধীন টিম কঠোর ফিল্ড ভেরিফিকেশন করবে এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তালিকা জেলাশাসকের (DM) কাছে পাঠানো হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *