লক্ষ্মীর ভাণ্ডার গ্রহীতাদের জন্য সুখবর! ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ নিয়ে বিরাট ঘোষণা অগ্নিমিত্রার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে পালাবদলের পর পূর্বতন সরকারের চালু করা জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্পগুলো নিয়ে আমজনতার মনে যে সংশয় তৈরি হয়েছিল, তার অবসান ঘটালেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তৃণমূল জমানার ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পটি বন্ধ হচ্ছে না, বরং তা ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ নামে আরও স্বচ্ছ ও আধুনিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। সোমবার শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পর এই বিষয়ে সরকারি অবস্থান পরিষ্কার করা হয়।
আবেদন প্রক্রিয়া ও অনলাইন পোর্টাল
এতদিন ‘দুয়ারে সরকার’ শিবিরের মাধ্যমে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ফর্ম জমা নেওয়া হলেও, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতিতে জোর দিচ্ছে নতুন সরকার। অগ্নিমিত্রা পাল জানান, সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে দ্রুত একটি অনলাইন পোর্টাল চালু করা হচ্ছে। যারা প্রথাগত শিক্ষায় শিক্ষিত নন, তারাও যাতে সহজে আবেদন করতে পারেন, সেইভাবেই পোর্টালটি তৈরি করা হবে। এছাড়া স্বচ্ছতা বজায় রাখতে মধ্যস্বত্বভোগীদের এড়িয়ে সরাসরি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ‘ডিবিটি’ (Direct Benefit Transfer) পদ্ধতিতে টাকা পাঠানো হবে।
কারা পাবেন এই প্রকল্পের সুবিধা
প্রকল্পের উপভোক্তা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন মন্ত্রী। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, যারা ইতিপূর্বে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছিলেন, তারা সকলেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আওতায় আসবেন। তবে অডিট বা বিশ্লেষণের মাধ্যমে তালিকায় থাকা ভুয়া নাম বাদ দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট করে দেন:
- মৃত ব্যক্তি বা বিদেশি নাগরিকদের (যেমন রোহিঙ্গা বা অনুপ্রবেশকারী) নাম তালিকা থেকে বাদ যাবে।
- যাদের নাম ইতিপূর্বে কাটা গিয়েছে কিন্তু তারা ভারতীয় নাগরিকত্বের সপক্ষে ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন, তাদের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার থেকে বঞ্চিত করা হবে না।
- তালিকায় নতুন নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগও থাকছে।
প্রভাব ও সরকারি লক্ষ্য
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের বিশাল সংখ্যক মহিলা ভোটারদের দুশ্চিন্তা দূর হবে। পুরনো প্রকল্প বন্ধ না করে নাম পরিবর্তন ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বিজেপি সরকার একদিকে জনমোহিনী ভাবমূর্তি বজায় রাখতে চাইছে, অন্যদিকে প্রশাসনিক স্তরে ডিজিটাল সংস্কারের বার্তাও দিচ্ছে। সমস্ত পোর্টাল আপগ্রেড করে ‘পেপারলেস অফিস’ তৈরির যে লক্ষ্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিয়েছেন, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার তারই একটি প্রাথমিক ধাপ হতে চলেছে।
