লাউডস্পিকারের আওয়াজ কমানো নিয়ে আসানসোলে রণক্ষেত্র, পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের পর কড়া বার্তা অগ্নিমিত্রা পালের – এবেলা
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/05/17/agnimitra-paul-warning-over-road-blockade-incident-in-asansol-2026-05-17-12-24-29.jpg)
এবেলা ডেস্কঃ
আসানসোলের জাহাঙ্গীর মহল্লা এলাকায় সুপ্রিম কোর্টের শব্দবিধি মেনে লাউডস্পিকারের আওয়াজ কমানোর অনুরোধ করতে গিয়ে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। শব্দদূষণ সংক্রান্ত একটি অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে পুলিশের একটি দল স্থানীয় বাসিন্দা এবং মসজিদ কর্তৃপক্ষের কাছে লাউডস্পিকারের আওয়াজ কিছুটা কমানোর অনুরোধ জানাতে গেলে এই পরিস্থিতির সূত্রপাত হয়। পুলিশের এই পদক্ষেপের পরই স্থানীয়দের একাংশ ক্ষুব্ধ হয়ে ফাঁড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করে এবং বচসা থেকে শুরু হয় হাতাহাতি।
পরবর্তীতে উত্তেজিত জনতা স্থানীয় একটি পুলিশ ফাঁড়িতে চড়াও হয়ে ব্যাপক ইটবৃষ্টি ও ভাঙচুর চালায়। এই ঘটনায় বেশ কয়েকটি সরকারি ও সাধারণ নাগরিকের গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠিচার্জ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে। বর্তমানে এলাকায় পুলিশ পিকট বসানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। এই হিংসাত্মক ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শনিবার পর্যন্ত অন্তত সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে বাকি অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলছে।
আইন লঙ্ঘনের পরিণতি ও প্রশাসনের অবস্থান
সুপ্রিম কোর্টের সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা অনুযায়ী জনপথ বা রাস্তা অবরোধ করে কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান করা নিষিদ্ধ এবং সমস্ত ধর্মীয় স্থানে লাউডস্পিকারের আওয়াজ অবশ্যই ৬৫ থেকে ৭৫ ডেসিবেলের আইনি সীমার মধ্যে রাখতে হবে। এই নিয়ম কার্যকর করতেই রাজ্যজুড়ে পুলিশ ও প্রশাসন বিভিন্ন ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছে। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার (ডিডিসি) ধ্রুব দাস জানিয়েছেন, ভিড়ের একটি অংশ ফাঁড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে যার ফলে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অগ্নিমিত্রা পালের কড়া হুঁশিয়ারি
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার কড়া বার্তা দিয়েছেন স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে জনসাধারণের অসুবিধা হয় এমন কোনো কাজ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে রাস্তা বন্ধ করে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করার এই প্রবণতার বিরুদ্ধে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দেন। সেই সঙ্গে শব্দদূষণের নির্দিষ্ট আইনি সীমা মেনে ডিজে বা লাউডস্পিকার বাজানোর বিষয়েও তিনি জোর দিয়েছেন। এই ঘটনার ফলে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রশাসনের ওপর চাপ আরও বাড়ল বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
