‘লাভ ও ল্যান্ড-জিহাদ’ রুখতে রাজ্যে কড়া আইন, হুঙ্কার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর – এবেলা
June 27, 2026

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: রাজ্যে ‘লাভ জিহাদ’ এবং ‘ল্যান্ড-জিহাদ’-এর মতো ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না। এই অপতৎপরতা রুখতে রাজ্য সরকার খুব শীঘ্রই কঠোর আইন আনতে চলেছে বলে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার রবীন্দ্র সদনে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ১৮৯তম জন্মজয়ন্তী ও ‘বন্দে মাতরম্’-এর ১৫০তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী এই স্পষ্ট বার্তা দেন।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল দিকগুলি:
- কঠোর আইন ও UCC: রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) চালু করার পাশাপাশি ‘হিন্দু হোমল্যান্ড’ রক্ষায় সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে তাদের হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হচ্ছে এবং নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলেও তিনি জানান।
- রাষ্ট্রবিরোধী কাজে ‘জিরো টলারেন্স’: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শে বাংলা চলবে। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, এ মাটিতে কোনও রাষ্ট্রদ্রোহিতা বা রাষ্ট্রবিরোধী কাজ সহ্য করা হবে না। পহেলগামের ঘটনা বা সেনার ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “চৈতন্যদেব, নেতাজি, শ্যামাপ্রসাদের মাটিতে এমনটা চলবে না।”
- বন্দে মাতরম্ নিয়ে বার্তা: রাজ্যের স্কুলগুলিতে প্রার্থনা সভায় ‘বন্দে মাতরম্’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে অনেকেই দাঁড়িয়ে পড়লেও গানটি গাওয়ার সময় ঠোঁট নাড়ছেন না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সময় লাগবে, তবে ঠোঁট নাড়াতে বাধ্য করা হবে।”
- গুন্ডাদমন: রাজ্যে গুন্ডাদমনে সরকার অত্যন্ত কঠোর। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, গুন্ডাদের শুধু দমন করাই নয়, প্রয়োজনে তাদের সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হবে।
- CAA ও শরণার্থীদের অধিকার: ধর্মীয় অত্যাচারের শিকার হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের সংশোধনী নাগরিকত্ব আইন (CAA)-এর আওতায় নাগরিকত্ব প্রদান করা হবে।
- সম্মাননা: জরুরি অবস্থার সময় যাঁরা লড়াই করেছিলেন এবং জেল খেটেছিলেন, আগামী ৯ অগস্ট রাজ্য সরকারের তরফে তাঁদের বিশেষ সম্মানে ভূষিত করা হবে।
অনুষ্ঠানে সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে বিএসএফ-কে (BSF) জমি দেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের সামগ্রিক সুরক্ষায় সরকার আপসহীন মনোভাব বজায় রাখবে বলে এদিন তিনি পুনরায় জোর দেন।
