লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের লেনদেন ঘিরে ইডির ম্যারাথন জেরা, একাধিক প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন অভিষেক! – এবেলা

লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের লেনদেন ঘিরে ইডির ম্যারাথন জেরা, একাধিক প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন অভিষেক! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) রাডারে এবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’। এই সংস্থার আর্থিক লেনদেন ও সম্পত্তির খতিয়ান সংক্রান্ত বিষয়ে সোমবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে টানা ১১ ঘণ্টা ম্যারাথন জেরা করেন ইডি আধিকারিকরা। তবে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তকারী সংস্থার সূত্র দাবি করেছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন এবং তদন্তে পুরোপুরি সহযোগিতা করেননি। যদিও সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরিয়ে তৃণমূল নেতা দাবি করেছেন, তিনি তদন্তে তাঁর সামর্থ্য অনুযায়ী সবরকম সাহায্য করেছেন।

তদন্তে ইডির ‘তুরুপের তাস’ ১৫ মিনিটের অডিও

ইডির এই পর্বের তদন্তের মূল ভিত্তি বা ‘তুরুপের তাস’ হলো একটি ১৫ মিনিটের অডিও কথোপকথন, যার উল্লেখ রয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থার তৃতীয় অতিরিক্ত চার্জশিটে। ২০১৭ সালে ‘কালীঘাটের কাকু’ ওরফে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের বেহালার বাড়িতে শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুন্তল ঘোষের একটি বৈঠক হয়েছিল। অভিযোগ, চাকরি বিক্রির বিপুল টাকা ভাগাভাগি নিয়ে হওয়া সেই দ্বন্দ্বমুখর বৈঠকের অডিও রেকর্ডিংয়ে বারবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম উঠে এসেছে। ওই কথোপকথন থেকে ইডি জানতে পেরেছে, চাকরিপ্রার্থীদের থেকে ১০০ কোটি টাকা তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যার একটি বড় অংশ বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলে পৌঁছানোর কথা ছিল। এই অডিওর সত্যতা এবং কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতেই মূলত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

আর্থিক লেনদেনের উৎস ও সম্ভাব্য প্রভাব

নিয়োগ দুর্নীতির টাকা ঘুরপথে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে কি না, সেটাই এখন ইডির প্রধান অন্বেষণ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে ২০২৩ সালের পর এই মামলায় তাঁকে আবার ডাকা হলো এবং এ পর্যন্ত তিনি ১০-১২ বার কেন্দ্রীয় সংস্থার মুখোমুখি হয়েছেন। তবে এই জিজ্ঞাসাবাদের পর আগামী দিনে তাঁর ওপর আইনি চাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ইডি সমস্ত নথিপত্র এবং বয়ান খতিয়ে দেখার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে। অভিষেককে পুনরায় তলব করা হবে কি না, তাও নির্ভর করছে এই নথির চুলচেরা বিশ্লেষণের ওপর। এই তদন্তের গতিপ্রকৃতি আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *