লিভ-ইন দেখে আতঙ্কিত সন্তান, সারারাত জেগে ছিল নকল বাবা!

হিমাচলে লিভ-ইন পার্টনারের নৃশংস হত্যা: পাঁচ বছরের শিশুর সাক্ষ্যে প্রকাশ্যে ভয়াবহ সত্য
হিমাচলের দাদাউলা রোডের একটি শ্রমিক কোয়ার্টারে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও শোকের ছায়া ফেলেছে। দীর্ঘ চার বছরের লিভ-ইন সম্পর্কের পরিণতি হলো মর্মান্তিক মৃত্যু। ৩০ বছর বয়সী সরোজকে পিটিয়ে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তার সঙ্গী সন্দীপের বিরুদ্ধে। সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো, এই নৃশংস ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন সরোজের নাবালক সন্তানরা।
শিশুর বয়ানে রহস্য উন্মোচন
শনিবার সকালে ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন সরোজের পাঁচ বছর বয়সী কন্যা তার নানার কাছে গিয়ে কান্নাকাটি শুরু করে। শিশুটি জানায়, তার কাকা মাকে অনেক মেরেছে এবং গলা টিপে ধরেছে, যার ফলে মা আর ঘুম থেকে উঠতে পারছেন না। এই কথা শুনে সরোজের বাবা মতিলাল দ্রুত ঘরে গিয়ে মেয়ের নিথর দেহটি পড়ে থাকতে দেখেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত সন্দীপ নিখোঁজ এবং পলাতক।
দীর্ঘদিনের অশান্তি ও পারিবারিক প্রেক্ষিত
তদন্তে জানা গেছে, নিহত সরোজ বিহারের গোপালগঞ্জের বাসিন্দা। দশ বছর আগে ওমপ্রকাশ রামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল এবং তাদের তিনটি সন্তান রয়েছে। তবে গত চার বছর ধরে তিনি ওমপ্রকাশকে ছেড়ে সন্দীপের সাথে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, সম্প্রতি তাদের সম্পর্কের মধ্যে চরম অবনতি ঘটে। সরোজের মামা বাচ্চা রামের দাবি, গত তিন দিন ধরে তাদের মধ্যে তীব্র বিবাদ চলছিল এবং শুক্রবারও সন্দীপ সরোজকে ছুরিকাঘাত করে আহত করেছিল।
ঘটনার বিশ্লেষণ ও প্রভাব
প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং হিংস্র মানসিকতা এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ। লিভ-ইন সম্পর্কের আড়ালে দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি এবং শারীরিক নির্যাতনের চূড়ান্ত রূপটি ফুটে উঠেছে এই ঘটনায়। এই নৃশংসতা কেবল একজন নারীর প্রাণ কেড়ে নেয়নি, বরং সন্তানদের মনে গভীর মানসিক ট্রমা সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ ইতিমধ্যে মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সিভিল হাসপাতালে পাঠিয়েছে। সরোজের মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত সন্দীপ স্থানীয় একটি কো ম্পা নিতে কর্মরত ছিলেন; পুলিশ বর্তমানে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।
এক ঝলকে
- নিহত: সরোজ (৩০), তিন সন্তানের জননী।
- অভিযুক্ত: সন্দীপ, সরোজের লিভ-ইন পার্টনার।
- ঘটনা: মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যা।
- স্থান: দাদাউলা রোড, হিমাচল।
- মূল সাক্ষী: সরোজের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে।
- বর্তমান অবস্থা: পুলিশি তদন্ত ও অভিযুক্তের খোঁজ চলছে।
