লোকসভায় বাড়ছে আসন, ২৭৩টি মহিলা আসন সংরক্ষিত! জানুন সব ডিটেইলস

লোকসভায় ঐতিহাসিক পরিবর্তন: আসন সংখ্যা বেড়ে হতে পারে ৮৫০, ২০২৯ থেকেই কার্যকর হতে পারে নারী সংরক্ষণ
ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের পথে হাঁটছে কেন্দ্রীয় সরকার। ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনাময়’ বা মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করার লক্ষ্যে লোকসভার আসন সংখ্যায় ব্যাপক পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সাম্প্রতিক ড্রাফট অনুযায়ী, লোকসভার মোট আসন সংখ্যা বর্তমানের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ৮৫০ হতে পারে, যা আগে ৮১৬ হওয়ার কথা ছিল।
আসন বিন্যাস ও প্রতিনিধিত্বের নতুন সমীকরণ
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে লোকসভার আসন বিন্যাস সম্পূর্ণভাবে নতুন রূপ নিতে চলেছে। ৮৫০টি মোট আসনের মধ্যে ৮১৫টি আসন থাকবে বিভিন্ন রাজ্যের জন্য এবং ৩৫টি আসন বরাদ্দ করা হবে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর জন্য। এর মধ্যে জাতীয় রাজধানী দিল্লির জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে ১১টি আসন।
এই নতুন বিন্যাসে প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে:
- মহিলা সংরক্ষণ: নতুন নিয়মে লোকসভার ৩৩ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। সেই হিসেবে ৮৫০টি আসনের মধ্যে অন্তত ২৭৩টি আসনে মহিলা সাংসদ নির্বাচিত হবেন।
- তফসিলি জাতি ও উপজাতি: এসসি (SC) ক্যাটাগরির আসন সংখ্যা ৮৪ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১৩৬ এবং এসটি (ST) ক্যাটাগরির আসন সংখ্যা ৪৭ থেকে বেড়ে ৭০ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
২০২৯ সালেই বাস্তবায়নের লক্ষ্য
প্রাথমিক ধারণা ছিল ২০৩৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে এই সংরক্ষণ ব্যবস্থা কার্যকর হবে। তবে বর্তমান সরকার এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকেই কার্যকর করার পরিকল্পনা করেছে। এই লক্ষ্য পূরণে আগামী তিন দিনের বিশেষ সংসদীয় অধিবেশনে সংশোধনী বিলটি পেশ করা হতে পারে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে সীমানা নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই বিশাল প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাজ সম্পন্ন করতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ব্যক্তিগতভাবে এই আইনের পক্ষে জনমত গঠনে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছেন। তিনি বিজেপি মহিলা কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন এবং আম্বেদকর জয়ন্তী উপলক্ষে দেশের মহিলাদের উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি লিখে তাঁদের এলাকার সাংসদদের বিলটি সমর্থন করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
তবে এই প্রস্তাবিত পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর নেতাদের আশঙ্কা, জনসংখ্যার ভিত্তিতে সীমানা নির্ধারিত হলে ওই অঞ্চলের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব হ্রাস পেতে পারে। বিরোধী দলগুলোর একাংশ এই পদক্ষেপকে কৌশলগত রাজনৈতিক চাল হিসেবে দেখছে।
এক ঝলকে
- মোট আসন: লোকসভার মোট আসন সংখ্যা বেড়ে ৮৫০ হতে পারে।
- মহিলা কোটা: ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ অনুযায়ী অন্তত ২৭৩টি আসন মহিলাদের জন্য নির্ধারিত।
- আসন বিভাজন: ৮১৫টি আসন রাজ্যের জন্য এবং ৩৫টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য।
- কার্যকরী সময়: ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচন থেকেই কার্যকর করার পরিকল্পনা।
- সীমানা নির্ধারণ: ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া।
- সংরক্ষিত বিভাগ: এসসি এবং এসটি উভয় ক্যাটাগরির আসনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
