শপথ নয় মেয়ের বিচারই প্রথম অগ্রাধিকার, নির্মল ঘোষের গ্রেফতারি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ নির্যাতিতার মা

শপথ নয় মেয়ের বিচারই প্রথম অগ্রাধিকার, নির্মল ঘোষের গ্রেফতারি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ নির্যাতিতার মা

বুধবার রাজ্য বিধানসভায় নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথ গ্রহণের রাজকীয় প্রস্তুতি থাকলেও সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন জলহাটির জয়ী প্রার্থী অর্থাৎ আরজি করের নির্যাতিতার মা। বিধানসভার পরিবর্তে এদিন তাঁকে দেখা যায় শিয়ালদহ আদালত চত্বরে। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, বিধায়ক হিসেবে শপথ নেওয়ার চেয়ে তাঁর কাছে মেয়ের বিচার পাওয়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। স্বজন হারানোর যন্ত্রণা বুকে নিয়ে এদিন তিনি সাফ জানান, তাঁর একমাত্র সন্তানই ছিল তাঁর পৃথিবী, তাই বিচারের লড়াইয়ে কোনো আপস নয়।

তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগে বিদ্ধ তিন প্রভাবশালী

আরজি কর কাণ্ডে জলহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষসহ সোমনাথ দাস এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের গ্রেফতারির দাবিতে এবার সরাসরি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে নির্যাতিতার পরিবার। শিয়ালদহ আদালতে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনার দিন এই তিন ব্যক্তি অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন এবং অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টা চালিয়েছিলেন। নির্যাতিতার আইনজীবীর দাবি, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও নথি হস্তান্তর ছাড়াই তড়িঘড়ি দেহ দাহ করার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, যা আদতে ‘দেহ হাইজ্যাক’ করার শামিল। এমনকি দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের পথেও তাঁরা বাধা সৃষ্টি করেছিলেন বলে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে।

সিবিআই-এর ভূমিকা ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ

আদালতে সিবিআই-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তদন্তের স্বার্থে কাকে গ্রেফতার করা হবে সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয় সংস্থার। তবে পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে তারা লিখিত জবাব দেওয়ার জন্য সময় চেয়েছে। অন্যদিকে, চার্জশিট দাখিলে বিলম্ব নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন পরিবারের আইনজীবীরা। দু’পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শেষে বিচারক আগামী ৫ জুন মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

আইনি লড়াইয়ের নেপথ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ

জলহাটির নির্বাচনী লড়াইয়ে পরাজিত তৃণমূল প্রার্থীর বাবা নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধেই এবার সরাসরি আইনি যুদ্ধে নেমেছেন জয়ী বিধায়ক তথা নির্যাতিতার মা। ফলে এই মামলাটি এখন আর কেবল অপরাধের তদন্তে সীমাবদ্ধ নেই, এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক মাত্রা। একদিকে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর নারী সুরক্ষায় নতুন কমিশনের প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে স্বজন হারানো মায়ের ব্যক্তিগত লড়াই— সব মিলিয়ে আরজি কর কাণ্ডটি এখন এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। আদালতের রায় ও তদন্তের গতিপ্রকৃতি আগামী দিনে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *