শপথ নিয়েই বিস্ফোরক শুভেন্দু, ঘর ভাঙছে তৃণমূলের!

ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই রাজ্য রাজনীতিতে কার্যত কম্পন ধরিয়ে দিলেন নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বিধানসভার বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক বিধায়ক ইতিমধেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। দলবদল বা রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়ে শুভেন্দু জানান, ওই বিধায়করা তাঁর কাছে এসে ‘স্বাধীনতা’ পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য রাজ্যের প্রধান বিরোধী শিবিরের অন্দরে বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
জনমুখী সরকার ও নতুন কর্মসংস্কৃতির বার্তা
শপথ গ্রহণের পর শুভেন্দু অধিকারী তাঁর সরকারের দর্শন স্পষ্ট করেছেন। বিধানসভার সিঁড়িতে প্রণাম করে ভেতরে প্রবেশ করার সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সংসদ ভবনে প্রবেশের স্মৃতি মনে করিয়ে দেন। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, তাঁর সরকার হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ। সচিবদের উদ্দেশে ‘মোসাহেবি’ ত্যাগ করে স্বাধীনভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি নিজের কনভয়ের বহর কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশাসনিক খরচ ও আড়ম্বর কমানোর বার্তাও দিয়েছেন তিনি।
নন্দীগ্রাম ত্যাগ ও বিজয় মিছিলে সংযম
ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় নিয়মানুযায়ী নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ছাড়তে হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীকে। তবে নন্দীগ্রামের মানুষের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা অটুট থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। অন্যদিকে, বিজয় মিছিল নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জনজীবনে বিশৃঙ্খলা এড়াতে বড় কোনো বিজয় মিছিল না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। পরিবর্তে ভবানীপুরে সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের কর্মসূচি রাখা হয়েছে, যেখানে জবরদস্তি আবির খেলা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করার জন্য কর্মীদের প্রতি কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত ক্ষমতার দাপট কমিয়ে একটি সংযত ও জনদরদী ভাবমূর্তি বজায় রাখাই এখন নতুন মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান লক্ষ্য।
