শহিদ দিবস কার! একুশে জুলাই পালনে ধর্মতলায় সভার অনুমতি চেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ দুই তৃণমূল – এবেলা

শহিদ দিবস কার! একুশে জুলাই পালনে ধর্মতলায় সভার অনুমতি চেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ দুই তৃণমূল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্য রাজনীতিতে এবার ২১শে জুলাইয়ের শহিদ দিবস পালন ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র দড়ি টানাটানি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে ধর্মতলায় সমাবেশের অনুমতি চেয়ে পুলিশকে চিঠি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আসরে নেমেছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। শনিবার সন্ধ্যায় তাদের তরফেও শহিদ দিবস পালনের জন্য সরাসরি কলকাতা পুলিশ কমিশনারের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।

অধিকারের লড়াই ও কটাক্ষ

শনিবার তপসিয়ার একটি বেসরকারি হোটেলে প্রায় ৫০ জন কাউন্সিলরকে নিয়ে ২১শে জুলাইয়ের প্রস্তুতি বৈঠক সেরেছে ঋতব্রত শিবির। নিজেদের ‘আসল’ তৃণমূল দাবি করে মমতাপন্থীদের তীব্র কটাক্ষ করেছেন মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান। বিধানসভায় মমতাপন্থীদের পর্যাপ্ত সংখ্যার অভাবকে বিদ্ধ করে তিনি বলেন, যাদের পরিষদীয় দল গঠনেরই ক্ষমতা নেই তারা আবার কীভাবে শহিদ দিবস পালন করবে। অতীতের সমাবেশগুলির সমালোচনা করে তাঁর শ্লেষ, এতদিন নায়ক-নায়িকাদের ভিড়ে আসল শহিদ পরিবারগুলিই হারিয়ে যেত, তবে এবার শহিদ পরিবারগুলিকে সামনে রেখেই প্রকৃত শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হবে।

আসরে প্রদেশ কংগ্রেসও

দুই তৃণমূলের এই দ্বন্দ্বের মাঝেই নতুন মাত্রা যোগ করেছে প্রদেশ কংগ্রেসের উদ্যোগ। ৩৩ বছর আগে তৎকালীন বাম সরকারের আমলে যুব কংগ্রেস কর্মীদের ওপর নির্বিচার গুলিবর্ষণের ঘটনাকে নিজেদের ঐতিহাসিক আন্দোলন বলে দাবি করেছে তারা। সেই অধিকারের ভিত্তিতে এবার শহিদ মিনারে ২১শে জুলাই পালনের জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে কংগ্রেস নেতৃত্ব।

রাজনৈতিক মহলের মতে, শহিদ দিবস পালনের এই ত্রিমুখী প্রতিযোগিতা রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে একটি বড় পরিবর্তন নির্দেশ করছে। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবং কংগ্রেসের নিজেদের হারানো জমি ও ইতিহাস পুনরুদ্ধারের এই চেষ্টা আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে মেরুকরণ আরও বাড়াবে। একইসঙ্গে, একই দিনে শহরের প্রাণকেন্দ্রে তিন দলের এমন পালটা কর্মসূচির উদ্যোগ পুলিশ ও প্রশাসনের জন্য আইনশৃঙ্খলা ও স্থান বরাদ্দের ক্ষেত্রে বড়সড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *