শহিদ পরিবারগুলোর দায়িত্ব নেবে সরকার, শুভেন্দুর ঘোষণায় স্বস্তির নিঃশ্বাস পুরুলিয়ায়

শহিদ পরিবারগুলোর দায়িত্ব নেবে সরকার, শুভেন্দুর ঘোষণায় স্বস্তির নিঃশ্বাস পুরুলিয়ায়

দীর্ঘ আট বছরের রক্তক্ষয়ী রাজনৈতিক সংগ্রামের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে স্বস্তির আলো দেখছে পুরুলিয়ার বিজেপি শহিদ পরিবারগুলো। রাজ্যে সরকার বদলের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, রাজনৈতিক হিংসায় প্রাণ হারানো ৩২১ জন বিজেপি কর্মী-সমর্থকের পরিবারের দায়িত্ব নেবে রাজ্য সরকার। এই তালিকায় পুরুলিয়ার ৬টি শহিদ পরিবারের নাম থাকায় খুশির হাওয়া বইছে বলরামপুর থেকে জয়পুর পর্যন্ত। মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তে আট বছর পর ‘স্বাধীনতার স্বাদ’ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন স্বজনহারারা।

পুনরায় খুলছে ত্রিলোচন-দুলাল খুনের মামলা

২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় বলরামপুরের ত্রিলোচন মাহাতো ও দুলাল কুমারের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন তাঁদের পরিজনেরা। নতুন সরকারের শপথের পরই দাবি উঠেছিল, এই ঘটনাগুলোর সিবিআই তদন্ত ও দোষীদের ফাঁসি দিতে হবে। বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ত্রিলোচন ও দুলাল কুমার খুনের মামলাগুলো এবার ‘রি-ওপেন’ বা পুনরায় তদন্ত করা হবে। প্রান্তিক এই পরিবারগুলোর কাছে এটি কেবল আর্থিক সুরাহা নয়, বরং দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচারের বার্তা নিয়ে এসেছে।

প্রান্তিক পরিবারগুলোতে খুশির আমেজ

পুরুলিয়ার যে ৬টি পরিবারকে শহিদ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাদের প্রত্যেকেরই অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। কেউ ছিলেন দিনমজুর, কেউ মুদি দোকানি আবার কেউ সামান্য চাষবাস করে সংসার চালাতেন। ২০১৮ সালে পুলিশের গুলিতে মারা যাওয়া নিরঞ্জন গোপ ও দামোদর মণ্ডল কিংবা ২০১৯ সালে রহস্যজনকভাবে খুন হওয়া শিশুপাল সহিসের পরিবারগুলো গত কয়েক বছর ধরে নিদারুণ অর্থকষ্ট ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটিয়েছে। ত্রিলোচন মাহাতোর বাবা হাঁড়িরাম মাহাতো ও দুলাল কুমারের স্ত্রী মণিকা কুমারের মতে, সরকারের এই ঘোষণা তাঁদের অন্ধকার জীবন থেকে মুক্তি দিল। জেলা বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই বলিদানই রাজ্যে পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করেছে, আর এখন সেই আত্মত্যাগের মর্যাদা দেওয়ার সময় এসেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *