শান্তিকালীন সময়ে ১২ পরমাণু অস্ত্র মোতায়েন ভারতের, কেন এই উদ্বেগজনক তোড়জোড়? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সুইডেনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট বা সিপ্রি (SIPRI) তাদের ‘ইয়ারবুক ২০২৬’-এ এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বের পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশগুলো তাদের সামরিক ভাণ্ডারে আগের তুলনায় অনেক বেশি সক্রিয়তা দেখাচ্ছে। যেখানে ভারত শান্তিকালীন সময়ে প্রথমবারের মতো ১২টি পরমাণু অস্ত্র মোতায়েন করেছে, সেখানে প্রতিবেশী চীনও তাদের সক্ষমতা বাড়িয়ে ৩৪টিতে উন্নীত করেছে।
শান্তিকালীন সময়ে ভারতের রণকৌশলে বড় বদল
ভারতের এমন পদক্ষেপ ভূ-রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাধারণত শান্তিকালীন পরিস্থিতিতে পারমাণবিক অস্ত্রগুলো কেবল সংরক্ষিত রাখা হয়, তবে ১২টি ওয়ারহেড সরাসরি মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত ভারতের সামরিক কৌশলের পরিবর্তনকেই ইঙ্গিত করে। বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতেই ভারত এই পথে হেঁটেছে। একইসঙ্গে চীনের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তাদের ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক ভাণ্ডারের বিপরীতে কৌশলগত ভারসাম্যের জায়গা থেকেই ভারত এই তোড়জোড় শুরু করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে বাড়ছে পারমাণবিক অস্ত্রের নির্ভরতা
সিপ্রির তথ্যমতে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বে মোট ১২,১৮৭টি পারমাণবিক ওয়ারহেড মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯,৭৪৫টি অস্ত্র সামরিক ভাণ্ডারে সংরক্ষিত থাকলেও ৪,০১২টি ওয়ারহেড ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমানের সঙ্গে সরাসরি মোতায়েন অবস্থায় রয়েছে। রাশিয়া ও আমেরিকা এই তালিকায় শীর্ষস্থানে থাকলেও, চীন ও ভারত যেভাবে তাদের পারমাণবিক শক্তি বাড়িয়ে চলেছে, তা ভবিষ্যতে এশিয়াসহ বিশ্বজুড়ে এক নতুন অস্থিরতার আবহ তৈরি করতে পারে। জাতীয় শক্তি প্রদর্শন এবং নিরাপত্তার অজুহাতে বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলোর এই মরণাস্ত্রের ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরশীলতা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতাকে আরও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
