শান্তিনিকেতনের অরবিন্দ নিলয়ে বাণিজ্যিক নির্মাণের আশঙ্কা, তীব্র বিতর্কের মাঝে অবস্থান স্পষ্ট করল ট্রাস্ট – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিশ্বভারতী সংলগ্ন শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী ‘শ্রী অরবিন্দ নিলয়’ প্রাঙ্গণে বাণিজ্যিক কংক্রিট নির্মাণের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক চর্শাকেন্দ্রের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করে বাণিজ্যিক প্রকল্প গড়ে তোলার আশঙ্কায় সরব হয়েছেন আশ্রমের একাংশ ভক্ত, অনুরাগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এই উদ্ভূত পরিস্থিতির মাঝেই এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে পুদুচেরির মূল অরবিন্দ আশ্রম ট্রাস্ট।
আশ্রমের অনুরাগীদের অভিযোগ, প্রাঙ্গণের ভেতরে অবস্থিত বিশ্বভারতীর ইংরেজি বিভাগের প্রয়াত অধ্যাপক তথা বিশিষ্ট গবেষক শিশির ঘোষের ঐতিহাসিক বাসভবনটি ভেঙে সেখানে একটি বহুতল ধর্মশালা, বৃদ্ধাশ্রম এবং ২৮ শয্যাবিশিষ্ট ব্যাঙ্কোয়েট হল নির্মাণের তোড়জোড় চলছিল। শান্তিনিকেতনের মতো একটি শান্ত ও আধ্যাত্মিক আবহসম্পন্ন স্থানে এমন বাণিজ্যিক উদ্যোগ আশ্রমের মূল ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করবে বলে দাবি করে ইমেলের মাধ্যমে পুদুচেরি কর্তৃপক্ষের কাছে আপত্তি জানান ভক্তরা।
ঐতিহ্য রক্ষায় অনড় প্রশাসন ও ট্রাস্টের আশ্বাস
বিতর্ক ও প্রতিবাদের মুখে পুদুচেরি অরবিন্দ আশ্রম ট্রাস্টের ম্যানেজিং ট্রাস্টি মনোজ দাশগুপ্ত একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। সেখানে জানানো হয়েছে, আশ্রম চত্বরে কিছু উন্নয়নমূলক চিন্তাভাবনা করা হলেও বোলপুর পুরসভা, বিশ্বভারতী বা অন্য কোনো প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনও কোনো অনুমোদন বা ছাড়পত্র নেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় সমস্ত আইনি ও সরকারি অনুমতি মিললে এবং আশ্রমের মর্যাদা, ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রেখেই কেবল মাত্র কোনো নির্মাণের বিষয় বিবেচনা করা হবে।
অন্যদিকে, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ জানিয়েছেন, এই সংক্রান্ত কোনো অনুমতির আবেদন এখনও তাদের কাছে জমা পড়েনি। যেহেতু অরবিন্দ নিলয় এলাকাটি ইউনেস্কো স্বীকৃত ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ বিশ্বভারতীর বাফার জোনের অন্তর্গত, তাই ভবিষ্যতে কোনো আবেদন এলে হেরিটেজ এলাকার কোর জোন ও বাফার জোনের সমস্ত কঠোর নিয়ম ও বিধিনিষেধ পুঙ্খানুপুঙ্খ মেনে তা পর্যালোচনা করা হবে।
আদর্শচ্যুতি ও সম্ভাব্য পরিবেশগত প্রভাব
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রী অরবিন্দ—এই দুই মহামনীষীর মানবতাবাদী আদর্শকে পাথেয় করে মীরা আলফাসার উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই নিলয়টি দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে নিয়মিত ধ্যান, যোগ ও সাধনার পবিত্র কেন্দ্র। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বাফার জোনে বড় আকারের বাণিজ্যিক নির্মাণ হলে অঞ্চলের শান্তিনিকেতনি পরিবেশ বিঘ্নিত হবে এবং পর্যটনকেন্দ্রিক কোলাহল বৃদ্ধি পেয়ে আধ্যাত্মিক পরিবেশ নষ্ট হবে। ট্রাস্টের সাম্প্রতিক বার্তা আপাতত পরিস্থিতি সামাল দিলেও, শান্তিনিকেতনের ঐতিহাসিক ও হেরিটেজ অঞ্চলের ঐতিহ্য রক্ষায় সমস্ত আইন কঠোরভাবে কার্যকর করার দাবিতে অনড় রয়েছেন সংস্কৃতিপ্রেমীরা।
