শাসক থেকে বিরোধী: বিধানসভায় নতুন ইনিংস শুরু তৃণমূলের, বিধায়কদের তদারকিতে শোভনদেব-ফিরহাদ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিয়েছে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন। দীর্ঘ ১৫ বছর শাসনের পর এবার তৃণমূল কংগ্রেসকে বসতে হচ্ছে বিধানসভার বিরোধী আসনে। বুধবার নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রথম দিনে বিধানসভায় সশরীরে হাজির হয়ে পরিস্থিতির তদারকি করলেন তৃণমূলের পরিষদীয় নেতৃত্ব। নবনিযুক্ত বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং মুখ্য সচেতক ফিরহাদ হাকিম এদিন দলের বিধায়কদের সুযোগ-সুবিধা ও পরিকাঠামো খতিয়ে দেখেন।
বিরোধী শিবিরে নতুন চ্যালেঞ্জ
এদিন বিধানসভায় প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়ের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীসহ ১৫২ জন বিধায়ক শপথ গ্রহণ করেন। তৃণমূলের পক্ষ থেকে নিয়ামত শেখসহ আরও কয়েকজন এদিন শপথ নিলেও শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ও ফিরহাদ হাকিমের শপথ নেওয়ার কথা আগামীকাল। তা সত্ত্বেও দলের বিধায়কদের জন্য নির্ধারিত বসার জায়গা এবং ঘরের ব্যবস্থা দেখতে আগেভাগেই বিধানসভায় পৌঁছান তাঁরা। পরিষদীয় কার্য পরিচালনার ক্ষেত্রে বিধায়কদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত খুঁটিনাটি বিষয়েরও খোঁজ নেন শোভনদেব। পাশাপাশি কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র এবং বারুইপুর পশ্চিমের বিধায়ক বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কেও এদিন বিধানসভা চত্বরে দেখা যায়।
ফিরহাদ হাকিম এদিন স্পষ্ট জানান, তাঁদের বিধায়কদের কোনও অসুবিধা হচ্ছে কি না, তা সরেজমিনে দেখতেই তাঁদের এই সফর। শাসকদল থেকে বিরোধী শিবিরের এই আকস্মিক অবস্থানে বিধায়কদের মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করতেই অভিজ্ঞ নেতাদের এই সক্রিয়তা বলে মনে করা হচ্ছে।
অধিকার রক্ষা ও ভবিষ্যৎ কৌশল
রাজ্যের নতুন সরকার বিরোধীদের গণতান্ত্রিক অধিকার সুনিশ্চিত করার আশ্বাস দিলেও তা নিয়ে কিছুটা সংশয়ী শোনায় প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের কণ্ঠ। তিনি মন্তব্য করেন যে, কথা বলা এবং বাস্তবে প্রয়োগের মধ্যে বিস্তর ফারাক থাকে। সরকার বিরোধীদের জন্য বরাদ্দ অধিকার কতটা রক্ষা করে, তা সময়ই বলবে। এর পাশাপাশি তৃণমূলের নতুন ও নবীন বিধায়কদের সংসদীয় রীতিনীতি শেখাতে বিশেষ ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছেন বিরোধী দলনেতা।
ঘটনার কারণ ও প্রভাব
টানা দেড় দশকের ক্ষমতা হারানোর পর বিধানসভায় তৃণমূলের ভূমিকা এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন। আগে যে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা তৃণমূল বিধায়করা ভোগ করতেন, এখন তা শাসকদল হিসেবে বিজেপির অনুকূলে। বসার আসন থেকে শুরু করে অফিস ঘর—সবই এখন পরিবর্তিত। এই নতুন পরিবেশের সঙ্গে দলের সদস্যদের খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং বিধানসভার ভেতরে শক্তিশালী বিরোধী কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজেদের তুলে ধরাই এখন ঘাসফুল শিবিরের প্রধান লক্ষ্য। পরিষদীয় অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শোভনদেব ও ফিরহাদের এই তৎপরতা আদতে দলের বিধায়কদের মনোবল চাঙ্গা করারই একটি কৌশল।
