শাসক বদলাতেই পুরুলিয়ায় বড় রদবদল, হেভিওয়েটদের নিরাপত্তা এক ঝটকায় প্রত্যাহার করল পুলিশ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরপরই পুরুলিয়া জেলা রাজনৈতিক মহলে এক বড়সড় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেই জেলার প্রথম সারির একাধিক তৃণমূল নেতা এবং একজন হেভিওয়েট কংগ্রেস নেতার নিরাপত্তা ও গৃহরক্ষী প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। এই তালিকায় সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ছয়জন প্রার্থীও রয়েছেন। পুলিশের এই আকস্মিক পদক্ষেপে জেলার রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন মোড় নিতে শুরু করেছে।
শনিবার পুরুলিয়া জেলা পুলিশের জারি করা এক নির্দেশিকায় মোট নয় জন সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী এবং ২৮ জন গৃহরক্ষী প্রত্যাহার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ৩৭ জন পুলিশ কর্মীকে অবিলম্বে ‘রিলিজ’ করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাঁদের পুলিশ লাইনে ‘রিপোর্ট’ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তালিকায় প্রাক্তন মন্ত্রী থেকে শুরু করে হেভিওয়েট প্রার্থীরা
নিরাপত্তা ও গৃহরক্ষী তুলে নেওয়ার এই তালিকায় সবথেকে উল্লেখযোগ্য নামগুলি হলো প্রাক্তন মন্ত্রী সন্ধ্যা রাণী টুডু ও শান্তিরাম মাহাতো এবং কংগ্রেসের পুরুলিয়া জেলা সভাপতি নেপাল মাহাতো। এদের মধ্যে সন্ধ্যা রাণী টুডুর ৪ জন এবং শান্তিরাম মাহাতোর ৫ জন গৃহরক্ষী প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই তিন নেতাই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
এছাড়াও বিদায়ী শাসকদলের হেভিওয়েট প্রার্থী অর্জুন মাহাতো, সুশান্ত মাহাতো, সৌমেন বেলথরিয়া ও রাজীব লোচন সরেনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এক লহমায় কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের সহ-সভাপতি শেখ সুলেমান, প্রাক্তন বিধায়ক স্বপন বেলথরিয়া, জেলা পরিষদ মেন্টর অঘোর হেমব্রম, জেলা পরিষদ সদস্য প্রতিমা সরেন, সংখ্যালঘু সেলের জেলা সভাপতি সাদ্দাম হোসেন আনসারী, শ্রমিক ইউনিয়নের জেলা সভাপতি উজ্জ্বল কুমার এবং আদ্রা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তুফান রায়।
কারণ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার অলিন্দে পরিবর্তন আসতেই এই ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত স্বাভাবিক হলেও, এত দ্রুত ও একসঙ্গে এতজন হেভিওয়েট নেতার নিরাপত্তা প্রত্যাহার করার ঘটনা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। সাধারণত নতুন সরকার গঠনের পর ভিআইপি নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলারক্ষী মোতায়েনের বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করা হয়।
এই সিদ্ধান্তের ফলে পুরুলিয়া জেলার রাজনৈতিক দলগুলির অভ্যন্তরে ক্ষমতার ভারসাম্য অনেকটাই বদলে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে যখন প্রশাসনিক খরচ হ্রাস এবং পুলিশ বাহিনীকে সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় ফিরিয়ে আনার যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে এর ফলে বিরোধী শিবিরে থাকা বিদায়ী শাসকদলের নেতাদের রাজনৈতিক গতিবিধি এবং জনসংযোগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের নিরাপত্তা জনিত প্রভাব পড়তে পারে।
