শিক্ষকদের বদলি নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত শুভেন্দু সরকারের, জারি নির্দেশিকা – এবেলা

শিক্ষকদের বদলি নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত শুভেন্দু সরকারের, জারি নির্দেশিকা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা, ১৪ জুলাই ২০২৬: রাজ্যের সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এবং স্পনসরড স্কুলগুলোতে শিক্ষক বণ্টনের প্রক্রিয়ায় বড়সড় পরিবর্তনের পথে রাজ্যের শিক্ষা দফতর। সোমবার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর মঙ্গলবারই এই সংক্রান্ত একটি স্পষ্ট ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর’ (SOP) প্রকাশ করা হয়েছে।

বদলির মূল লক্ষ্য: শিক্ষা দফতর মূলত দুটি ক্ষেত্রে নজর দিচ্ছে— ১. যে স্কুলগুলোতে কোনও ছাত্রছাত্রী নেই (Zero Enrolment School)। ২. যে স্কুলগুলোতে প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক সংখ্যা বেশি। এই দুই ধরনের স্কুল থেকেই শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের অন্যত্র বদলি করা হবে। মূলত, যেসব স্কুলে শিক্ষক-সংকট রয়েছে, তাঁদের সেখানেই নিয়োগ করা হবে।

কীভাবে হবে বদলি?

  • ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত (PTR): শিক্ষা দফতর পিটিআর-এর ভিত্তিতে শিক্ষক-সংকট থাকা স্কুলগুলোকে চিহ্নিত করবে। যে স্কুলে একজন শিক্ষকের উপর অনেক বেশি ছাত্রছাত্রীর দায়িত্ব রয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
  • তালিকা প্রকাশ: জেলা স্তরে ডিস্ট্রিক্ট ইন্সপেক্টর (DI) এবং ডিস্ট্রিক্ট প্রাইমারি স্কুল কাউন্সিল (DPSC) শূন্যপদের বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করবে।
  • পছন্দের স্কুল: বদলির তালিকায় থাকা শিক্ষকরা সংশ্লিষ্ট তালিকা থেকে নিজের পছন্দের তিনটি স্কুলের নাম জানানোর সুযোগ পাবেন। প্রশাসন সেই পছন্দ অনুযায়ী বদলির চেষ্টা করবে। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পছন্দ না জানালে বা পছন্দের স্কুলে আসন না থাকলে, প্রশাসন নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোনও স্কুলে তাঁদের পাঠাতে পারবে।
  • সিনিয়রদের অগ্রাধিকার: যেসব স্কুলে অতিরিক্ত শিক্ষক রয়েছেন, সেখানে যারা দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত (সিনিয়র), তাদেরই আগে বদলির আওতায় আনা হবে। প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের এই তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে।

ছাত্রহীন স্কুলের ভবিষ্যৎ: যেসব স্কুল থেকে সমস্ত শিক্ষক ও কর্মীকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে, সেই স্কুলের বিল্ডিং ও সম্পত্তির দায়িত্ব সাময়িকভাবে সংশ্লিষ্ট সাব-ইন্সপেক্টর অব স্কুলস গ্রহণ করবেন। এছাড়া, ছাত্রহীন মাধ্যমিক স্কুলগুলোর অনুমোদিত শিক্ষকপদগুলোও তুলে নিয়ে অন্য স্কুলে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা দফতর।

শিক্ষা দফতরের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো রাজ্যের প্রতিটি স্কুলে শিক্ষকের ভারসাম্য বজায় রাখা। তবে সিনিয়রিটির ভিত্তিতে বদলি ও অতিরিক্ত শিক্ষক বাছাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে শিক্ষক সংগঠনগুলোর একাংশ আলোচনার প্রয়োজনীয়তা দেখছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *