শিক্ষাঙ্গনে হিংসা বরদাস্ত নয়, জলপাইগুড়ির প্রধান শিক্ষক নিগ্রহে বড়সড় পুলিশি পদক্ষেপ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 12, 20267:33 pm
জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষককে নৃসংসবাবে মারধরের বিভীষিকাময় ঘটনায় স্তম্ভিত গোটা রাজ্য। শিক্ষাঙ্গনে এমন অভাবনীয় হিংসার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হতেই অবশেষে কড়া পদক্ষেপ করল প্রশাসন। শনিবার শিক্ষক নিগ্রহের ঘটনায় অভিযুক্ত চার নাবালক ছাত্রকে আটক করে, আইনি সুরক্ষাবিধি মেনে মুখ ঢেকে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে পেশ করল কোতোয়ালি থানার পুলিশ।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও রাজ্যজুড়ে ক্ষোভ গত মঙ্গলবার স্কুলের ভিতরেই একদল উচ্ছৃঙ্খল ছাত্রের হিংসাত্মক হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হন প্রধান শিক্ষক ধর্মচাঁদ বারুই। রক্তে ভেসে তাঁর মাটিতে লুটিয়ে পড়ার দৃশ্য সমাজমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষাবিদ—সকলেই তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দায় ফেটে পড়েন।
শিক্ষামন্ত্রীর কঠোর বার্তা ও পুলিশি অভিযান পরিস্থিতি পর্যালোচনায় গত শুক্রবার সরাসরি জেলা স্কুলে পৌঁছান রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ। তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনোভাবেই শৃঙ্খলাভঙ্গ ও হিংসা সহ্য করা হবে না। অভিযুক্তদের অবিলম্বে স্কুল থেকে টিসি (TC) দিয়ে বহিষ্কারের নির্দেশ দেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রীর পরিদর্শনের পরই আহত প্রধান শিক্ষক ধর্মচাঁদ বারুই কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ জানান। অভিযোগের পরপরই পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে চার অভিযুক্তকে আটক করে।
পরিবারের আকুতি বনাম নাগরিকদের কড়া শাস্তির দাবি অন্যদিকে, আইনি পদক্ষেপ শুরু হতেই অভিযুক্ত এক ছাত্রের মা রাখী দাস কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, “আমার ছেলে কখনো শিক্ষকদের আসাম্মান করেনি। হঠাৎ কী হলো বুঝতে পারছি না। সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ, বিষয়টি বিবেচনা করে যেন ওদের ক্ষমা করে দেওয়া হয়।” তবে সচেতন নাগরিক সমাজ একসুরে দাবি তুলেছেন, স্কুলের পবিত্রতা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দোষী ছাত্রদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করতেই হবে।
