শিক্ষায় বড় প্রযুক্তি বিপ্লব ত্রিপুরায়: ২৪০ স্কুলে শুরু ভার্চুয়াল ক্লাসরুম, উপকৃত ৪০ হাজার পড়ুয়া! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আগরতলা: একাগ্রতা, সঠিক জ্ঞান অর্জন এবং লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হওয়াই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি— ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে এই অনুপ্রেরণাদায়ক বার্তা দিলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী তথা শিক্ষামন্ত্রী প্রফেসর ডা. মানিক সাহা। শনিবার আগরতলার পিএম-শ্রী এ.ডি. নগর ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ে বেশ কয়েকটি শিক্ষা ও পরিকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত ছিলেন। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত হতে জ্ঞান অর্জনকেই মূল হাতিয়ার বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী এ.ডি. নগর ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয় ছাড়াও নেতাজি সুভাষ বিদ্যানিকেতন, বড়দোয়ালি, হাঁজলয়া এবং চারিপাড়া দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে ভূমিপূজন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘RIDF’ প্রকল্পের অধীনে এই ৫টি স্কুলের জন্য প্রায় ২৯ কোটি ১২ লক্ষ টাকা খরচ করা হবে। একই সাথে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের ২১৩টি স্কুলের পরিকাঠামো উন্নত করতে ইতিমধ্যেই ১,১৭৮ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় করা হয়েছে। পাশাপাশি বড়দোয়ালি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়কে একটি অত্যাধুনিক ‘মডেল স্কুল’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন তিনি।
ভার্চুয়াল ক্লাসরুম ও প্রযুক্তির ছোঁয়া: এদিনের অনুষ্ঠানের সবচেয়ে মূল আকর্ষণ ছিল ২৪০টি বিদ্যালয়ে ইন্টার্যাকটিভ ‘ভার্চুয়াল ক্লাসরুম’ চালুর সিদ্ধান্ত। এর ফলে প্রত্যন্ত এলাকার প্রায় ৪০ হাজার ছাত্রছাত্রী সরাসরি শহরের অভিজ্ঞ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের থেকে গণিত, বিজ্ঞান ও ইংরেজির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের পাঠ নিতে পারবে। সেন্ট্রাল স্টুডিও থেকে পরিচালিত এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সরাসরি প্রশ্নও করতে পারবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই আরও ২৪০টি স্কুলে এই সুবিধা চালুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ ও অভিভাবকদের দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘পরীক্ষা পে চর্চা’ কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার ভয় যেন শিক্ষার্থীদের মধ্যে অবসাদ না আনে। ক্লাসরুমের পড়া ঠিকমতো শুনলে প্রাইভেট টিউশনের ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে যায়। অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি আহ্বান জানান, সন্তানদের কেবল বেশি নম্বরের পেছনে না দৌড়ে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সামাজিক কাজে যুক্ত রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
অন্যান্য উন্নয়নমূলক উদ্যোগ: রাজ্যে শিক্ষার মানোন্নয়নে ICT, টিঙ্কারিং ল্যাব, নিপুণ ত্রিপুরা, বিদ্যাসেতু, মুকুল, ট্যালেন্ট সার্চ প্রোগ্রাম এবং ‘সুপার-৩০’-এর মতো প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। নবম শ্রেণির ১ লক্ষ ৬৫ হাজার ছাত্রীকে নিখরচায় সাইকেল দেওয়ার কথাও জানানো হয়।
শিক্ষা ক্ষেত্রের পাশাপাশি এদিন আগরতলা পুরনিগম এলাকায় জমির ডিজিটাইজেশনের জন্য ‘নকশা’ নামের একটি পাইলট প্রকল্পের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এর ফলে ডিজিটাল ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে জমি সংক্রান্ত জটিলতা অনেকটাই কমবে। সব মিলিয়ে, প্রযুক্তি ও উন্নত পরিকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিল ত্রিপুরা সরকার।
