শিন্ডে মডেলে টার্গেট জোড়াফুল! ঋতব্রত-কাকলির জোড়া ফলায় চরম সংকটে তৃণমূল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিধানসভা ও লোকসভায় তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের আগুন এবার চূড়ান্ত আইনি লড়াইয়ের পথে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে বিদ্রোহী শিবির নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে দলের জোড়াফুল প্রতীক ছিনিয়ে নিতে এক সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও আইনি রোডম্যাপ তৈরি করেছে। বিধানসভায় ইতিমধ্যেই বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি পেয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছেও এনডিএ-পন্থী ব্লক হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির দাবি জানাবেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার।
নির্বাচন কমিশনে শিন্ডে মডেলের প্রয়োগ
বিদ্রোহী দুই শিবিরের প্রাথমিক লক্ষ্য হলো স্পিকারদের সিলমোহর আদায় করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন মূল দলকে দুর্বল প্রমাণ করা। লোকসভার সবুজ সঙ্কেত মিললেই তাঁরা একযোগে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হবেন। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, মোট ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনের বেশি এবং ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জনের বেশি তাঁদের পক্ষে রয়েছেন। এই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরেই তাঁরা দলের নাম, জোড়াফুল প্রতীক ও সাংগঠনিক অধিকার নিজেদের হাতে দাবি করবেন। সম্প্রতি দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে এই পুরো পরিকল্পনাটি নিয়ে বিশদে আলোচনা হয়েছে, যেখানে মহারাষ্ট্রের শিবসেনা ভাঙন ও একনাথ শিন্ডে মডেলকে ব্লু-প্রিন্ট হিসেবে সামনে রাখা হচ্ছে।
দীর্ঘ আইনি লড়াই ও সম্ভাব্য প্রভাব
সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায় অনুযায়ী, যে পক্ষের দিকে সংখ্যাগরিষ্ঠ সাংসদ ও বিধায়কের সমর্থন থাকে, তাঁরাই দলের মূল প্রতীক পাওয়ার আইনি অধিকারী হন। এই আইনি নজিরকে হাতিয়ার করেই বাংলায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে এগোচ্ছে বিদ্রোহী ব্লক। তবে এই রাজনৈতিক লড়াই রাতারাতি শেষ হওয়ার নয়। নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু হওয়া এই অধিকারের লড়াই নিশ্চিতভাবেই সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াবে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনি টানাপোড়েন পেরিয়ে এই জোড়াফুল কার দখলে থাকবে তার চূড়ান্ত ফয়সালা হতে অন্তত চার-পাঁচ মাস সময় লাগতে পারে। এর ফলে রাজ্য রাজনীতিতে এক বড়সড় ক্ষমতার পালাবদল এবং তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে দীর্ঘস্থায়ী সাংগঠনিক সঙ্কটের পরিস্থিতি তৈরি হতে চলেছে।
