‘শুধু চোখের জল নয়, জবাবদিহি চাই!’ দিল্লি-NCR-এ একের পর এক গণধর্ষণে তোলপাড় দেশ, কড়া বার্তা শীর্ষ আদালতের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 28, 20261:52 pm
নয়াদিল্লি: রাজধানী ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকা (Delhi-NCR)-তে একের পর এক নৃশংস গণধর্ষণ ও নাবালিকা নির্যাতনের ঘটনায় স্তম্ভিত গোটা দেশ। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে যে, দেশের সর্বোচ্চ আদালত এবার সরাসরি স্বতঃপ্রণোদিত (Suo Motu) হস্তক্ষেপ করল। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, সাম্প্রতিক একের পর এক ভয়ঙ্কর ঘটনা ২০১২ সালের সেই নৃশংস ‘নির্ভয়া’ কাণ্ডের যন্ত্রণাদায়ক স্মৃতিকেই যেন নতুন করে উস্কে দিচ্ছে।
বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের ডিভিশন বেঞ্চ এ দিন প্রশাসন ও পুলিশকে একহাত নেয়। আদালতের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে নারীদের মৌলিক নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলি। সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার জানিয়েছে, এই ধরণের ঘটনায় শুধু অপরাধের পর সমবেদনা জানানো বা সংহতি প্রকাশ করা যথেষ্ট নয়; প্রশাসন ও পুলিশের গাফিলতির জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। অপর্যাপ্ত আলো, ঢিলেঢালা নজরদারি ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণেই পার্ক বা বাস স্ট্যান্ডের মতো পাবলিক প্লেসগুলি অপরাধীদের আস্তানায় পরিণত হচ্ছে।
চলন্ত বাসে নাবালিকাকে গণধর্ষণ: সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া পদক্ষেপের অন্যতম বড় কারণ সম্প্রতি এক ১৬ বছরের কিশোরীর সঙ্গে ঘটা বিভীষিকা। উত্তরপ্রদেশের মৈনপুরী থেকে নয়ডায় আত্মীয়ের বাড়ি আসার পথে ভুলবশত একটি খালি স্লিপার বাসে উঠে পড়ে ওই নাবালিকা। গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার নাম করে চালক ও কন্ডাক্টর তাকে চলন্ত বাসে হাড়হিম করা নির্যাতন ও গণধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। পরবর্তীতে তাকে কাশ্মীরি গেটের কাছে ফেলে রেখে চম্পট দেয় তারা। পুলিশ সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ দেখে কন্ডাক্টরকে গ্রেপ্তার করেছে এবং বাসটি বাজেয়াপ্ত করেছে।
পার্ক থেকে টেম্পো— একের পর এক জঘন্য অপরাধ: বাসের ঘটনার ঘোর কাটতে না কাটতেই চলতি মাসেই টেম্পোর ভেতর এক কিশোরীকে গণধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করার অভিযোগ ওঠে। এখানেই শেষ নয়, গত সপ্তাহেই দিল্লির কালকাজি মন্দিরের কাছের একটি পার্কে ভূয়ো পুলিশ সেজে আর এক কিশোরীকে ভয় দেখিয়ে গণধর্ষণ করা হয়।
২০১২ সালের সেই ভয়াবহ নির্ভয়া কাণ্ডের পর দেশে নারী সুরক্ষা আইন কঠোর করা হলেও, বাস্তবে পরিস্থিতির যে কোনো পরিবর্তন হয়নি, দিল্লির সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলি তারই প্রমাণ দিচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া মনোভাবের পর এখন দেখার, রাজধানী ও আশেপাশের এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন কী কী কড়া পদক্ষেপ নেয়।
