শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় ‘ত্রিশক্তি’র ম্যাজিক, মতুয়া গড়ে বিজেপির বাজি এখন মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া! – এবেলা

শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় ‘ত্রিশক্তি’র ম্যাজিক, মতুয়া গড়ে বিজেপির বাজি এখন মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ব্রিগেডের মহাসমাবেশে এক ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে এবারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে মন্ত্রিসভার প্রথম পাঁচ সদস্যের নাম। বিশেষ করে, বনগাঁ উত্তরের বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়ার মন্ত্রিত্ব লাভ কেবল একজন ব্যক্তির উত্থান নয়, বরং মতুয়া ভোটব্যাংককে স্থায়ীভাবে নিজেদের অনুকূলে রাখার এক সুনিশ্চিত কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মতুয়াগড় আগলে রাখার পুরস্কার

২০২১ সালের ধারা বজায় রেখে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনেও বনগাঁ উত্তরে তৃণমূল প্রার্থীকে বিপুল ব্যবধানে পরাজিত করেছেন অশোক কীর্তনিয়া। নির্বাচনের আগে তিনি এই আসনকে বিজেপির ‘দুর্জয় ঘাঁটি’ হিসেবে দাবি করেছিলেন, যার প্রমাণ মিলেছে ভোটের ফলাফলে। মতুয়া সমাজের অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবং নাগরিকত্ব ইস্যু নিয়ে টানাপড়েন থাকা সত্ত্বেও, অশোক কীর্তনিয়া তাঁর নির্বাচনী এলাকায় বিজেপির জনভিত্তি অটুট রাখতে সক্ষম হয়েছেন।

ত্রিশক্তির ভারসাম্য ও রাজনৈতিক সমীকরণ

বিজেপির এই নতুন মন্ত্রিসভায় হিন্দু, আদিবাসী ও মতুয়া—এই ‘ত্রিশক্তি’র জোটকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আদিবাসী প্রতিনিধি হিসেবে ক্ষুদিরাম টুডুর পাশাপাশি অশোক কীর্তনিয়াকে প্রথম সারিতে নিয়ে আসা হয়েছে যাতে মতুয়া সমাজের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও দাবিদাওয়া সরাসরি সরকারের নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে। নাগরিকত্ব ইস্যু ও ভোটার তালিকা নিয়ে উদ্ভূত জটিলতার মাঝে মতুয়া সমাজের আস্থা অর্জনই এখন এই নতুন মন্ত্রীর প্রধান চ্যালেঞ্জ।

তৃণমূল ও বিজেপির রাজনৈতিক লড়াইয়ে ঠাকুরবাড়ি বরাবরই বিভক্ত থেকেছে। একদিকে শান্তনু ঠাকুর ও অন্যদিকে মমতাবালা ঠাকুরের অনুগামীদের মধ্যকার এই মেরুকরণ নিরসন করে সাধারণ মতুয়াদের সরকারি পরিষেবা ও অধিকার পৌঁছে দেওয়াই অশোক কীর্তনিয়ার মন্ত্রিত্বের মূল লক্ষ্য হতে চলেছে।

এক ঝলকে

  • শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভায় প্রথম পাঁচ মন্ত্রীর তালিকায় জায়গা পেলেন অশোক কীর্তনিয়া।
  • বনগাঁ উত্তর কেন্দ্র থেকে প্রায় ৪০ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন তিনি।
  • মতুয়া, হিন্দু ও আদিবাসী ভোটব্যাংককে সংহত রাখতেই বিজেপির এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত।
  • মতুয়া সমাজের নাগরিকত্ব ও অন্যান্য দাবি পূরণই এখন নতুন সরকারের বড় লক্ষ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *