শুভেন্দুর শপথের দিনেই মমতার গর্জন, বিজেপি বিরোধী জোট গড়তে বাম-কংগ্রেসকে বিশেষ বার্তা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করতেই রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার বিজেপির মোকাবিলায় রাজ্যের সমস্ত বিরোধী শক্তিকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বাম থেকে অতি-বাম— আদর্শগত বিভেদ ভুলে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে একটি অভিন্ন মঞ্চ তৈরির ডাক দিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
এককাট্টা হওয়ার বার্তা ও রণকৌশল
রাজ্যে বিজেপির প্রথম সরকারের শপথ গ্রহণের দিনেই কালীঘাটে নিজের বাসভবনের সামনে রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত একটি সভায় ভাষণ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মতাদর্শের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে বিজেপির বিরোধিতা। তাঁর কথায়, “শত্রুর শত্রু বন্ধু— এই নীতিতে চলার সময় এখন নয়। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত বিজেপির প্রতিরোধ।” কেবল রাজনৈতিক দল নয়, শিক্ষার্থী সংগঠন এবং এনজিও-গুলিকেও এই লড়াইয়ে সামিল হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। কোনো দল এ বিষয়ে আলোচনায় আগ্রহী হলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কথা বলতে প্রস্তুত বলেও জানান।
বিজেপির জয় ও তৃণমূলের অবস্থান
সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে জিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিজেপি। অন্যদিকে, গত দশ বছর ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস এবার ৮০টি আসনে জয়ী হয়ে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ২০০১১ সালে তিনি ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যে কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হতে দেননি, অথচ এখন ‘গুণ্ডামির’ রাজনীতি শুরু হয়েছে।
জাতীয় স্তরে সমন্বয়ের আবহ
রাজ্য রাজনীতিতে জমি পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি জাতীয় স্তরেও যোগাযোগ শুরু করেছেন মমতা। তিনি জানান, নির্বাচনের পর কংগ্রেসের সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়গের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধব ঠাকরে, তেজস্বী যাদব এবং অখিলেশ যাদবের মতো নেতারাও তাঁর পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্মিলিত বিরোধী মঞ্চ গঠনের আহ্বান ভবিষ্যতে বাংলার রাজনীতিতে নতুন কোনো সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা বিজেপি সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
