শেখ হাসিনাকে দ্রুত ফেরানোর কড়া দাবি! ভারতের কাছে বড় বার্তা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের, তুঙ্গে জল্পনা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ঢাকা: গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার দুই বছর পর, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে ভারতের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়াল বাংলাদেশ। এবার সরাসরি ভারতের কাছে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের জোরালো দাবি তুললেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার ঢাকায় সফররত ভারতের বিশেষ প্রতিনিধি ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে ওসমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদেরও দ্রুত ফেরত পাঠানোর আবেদন জানিয়েছে ঢাকা।
ব্রিকস সম্মেলন ও উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠক
চলতি বছর ভারতে আয়োজিত হতে যাওয়া ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনে যোগদানের আমন্ত্রণ জানাতে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করতে ঢাকায় যান ভারতের প্রতিনিধি দীনেশ ত্রিবেদী। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এই বৈঠকে মূল আলোচনায় উঠে আসে কূটনৈতিক ও সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়গুলো। বৈঠক শেষে এক সরকারি বিবৃতিতে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
RAW প্রধানের নিরাপত্তা সফর ও সীমান্ত সতর্কতা
দীনেশ ত্রিবেদীর সফরের মাঝেই বাংলাদেশে পৌঁছায় ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘RAW’-এর প্রধান পরাগ জৈনের নেতৃত্বাধীন একটি উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা প্রতিনিধি দল। বাংলাদেশের গোয়েন্দা আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁদের এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য—সীমান্তবর্তী এলাকার নতুন নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা করা। সূত্রের খবর, বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নাশকতা চালানোর ছক কষছে কিছু জঙ্গি গোষ্ঠী, যা রুখতে যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই দেশ। বৈঠক শেষে দিনেশ ত্রিবেদী জানান, আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে এবং সম্পর্ক সুদৃঢ় রাখতে উভয় দেশই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রেক্ষিত
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। ইতিপূর্বে তাঁর অনুপস্থিতিতেই বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গণহত্যার দায়ে তাঁকে ফাঁসির দণ্ডাদেশ দেয়। মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও আগে একাধিকবার তাঁকে ফেরানোর চেষ্টা চালিয়েছিল। পরবর্তীতে দেশে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর, খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবি তোলায় এখন ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের কূটনৈতিক পারদ তুঙ্গে।
