সংসদে রাহুলের বোমা! পড়ুয়াদের উপর গুলি চালানোর নির্দেশ অমিত শাহের, দাবি কংগ্রেস নেতার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নয়াদিল্লি: প্রশ্নপত্র ফাঁস বিরোধী বিল নিয়ে লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তীব্র হট্টগোলে জড়িয়ে পড়েন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। এক ছাত্রীর সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের প্রসঙ্গ তুলে ‘ইডিয়ট’ এবং ‘অন্ধভক্ত’ শব্দদু’টি ব্যবহার করায় উত্তাল হয়ে ওঠে সংসদ। তবে এই প্রসঙ্গে রাহুল স্পষ্ট জানান যে তিনি শাসক পক্ষের কাউকে সরাসরি ‘ইডিয়ট’ বলেননি।
কেন এই শব্দগুলির প্রয়োগ? কংগ্রেস সাংসদ জানান, এক ছাত্রী তাঁকে বলেছিলেন যে এমন কিছু মানুষ রয়েছেন যাঁরা নিজেদের ভগবান মনে করেন, অত্যন্ত অহংকারী এবং কারও কথা শোনেন না। সেই ছাত্রীকে তিনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে সে কাদের কথা বলছে, যার উত্তরে ওই ছাত্রী জানায় যে সে ওই ধরনের মানুষদের ‘ইডিয়ট’ বলে মনে করে। রাহুলের এই মন্তব্যের পরেই শাসক দল বা ট্রেজারি বেঞ্চের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয় এবং এই শব্দপ্রয়োগ অসংসদীয় বলে তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি ওঠে। হাঙ্গামার মধ্যেই রাহুল বলেন, একটি ক্যাটাগরি যদি ‘ইডিয়ট’ এবং অন্যটি ‘পড়ুয়া’ হয়, তবে তৃতীয় ক্যাটাগরি হলো ‘অন্ধভক্ত’রা।
অমিত শাহের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ বক্তব্যের সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে তীব্র আক্রমণ করেন রাহুল গান্ধী। তাঁর বিস্ফোরক দাবি, দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদী ছাত্রদের ওপর বলপ্রয়োগের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই দিয়েছিলেন। রাহুল অভিযোগ করেন, ভারতের ছাত্রদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁদের শরীরে পেলেটও ঢুকেছে। এই ধরনের বলপ্রয়োগের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষমতা কেবল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীরই থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংসদে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় রাহুলের এই মন্তব্যের পর পরই শাসকদলের সাংসদরা তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এই অভিযোগের সাপেক্ষে প্রমাণ চেয়ে বলেন, কোনো রকম তথ্যপ্রমাণ ছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এত বড় গুরুতর অভিযোগ আনা যায় না। এর পাশাপাশি এনডিএ-র একাধিক সাংসদ রাহুলের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেন। পরে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা হস্তক্ষেপে রাহুলকে মনে করিয়ে দেন যে, সংসদে কোনো গুরুতর অভিযোগ তুলতে গেলে তার পক্ষে যথাযথ তথ্যপ্রমাণ থাকা বাধ্যতামূলক।
