সই জাল কাণ্ডে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি, এবার সরাসরি বিধানসভায় সিআইডি অভিযান – এবেলা

সই জাল কাণ্ডে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি, এবার সরাসরি বিধানসভায় সিআইডি অভিযান – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সংসদীয় দলের পদাধিকারী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ওঠা ‘সই জাল’ বিতর্ক আরও ঘনীভূত হলো। শাসকদলের শীর্ষ স্তরের নেতাদের ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর এবার সরাসরি বিধানসভা ভবনে হানা দিলেন সিআইডি আধিকারিকরা। সোমবার দুপুর পৌনে দুটো নাগাদ তদন্তকারীরা স্পিকারের সচিবালয়ে পৌঁছান। সিআইডি সূত্রে খবর, গত কয়েকদিন ধরে দফায় দফায় জেরার পরও তদন্তে কোনও স্পষ্ট দিশা না মেলায় অবশেষে ঘটনার উৎসস্থলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দাদের মূল লক্ষ্য হলো বিতর্কিত সেই ‘রেজোলিউশন কপি’ উদ্ধার করা, যার ভেতরেই লুকিয়ে রয়েছে জালিয়াতির মূল রহস্য।

মুখোমুখি জেরাতেও কাটেনি ধোঁয়াশা

এই মামলার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দু’বার তলব করেছে রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা। গত রবিবার বিধায়ক কুণাল ঘোষের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখোমুখি বসিয়ে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে সিআইডি সূত্রে খবর, এই ম্যারাথন জেরার পর তদন্তকারীরা একেবারেই সন্তুষ্ট নন। অভিষেকের দেওয়া বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি মিলেছে এবং বহু প্রশ্নের উত্তরে তিনি ‘জানি না’ বলে এড়িয়ে গেছেন। এর আগে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়েও কোনও লাভ হয়নি। ফলে মূল নথির অবস্থান জানতে এবং সই জালের মূলে পৌঁছাতে বিধানসভা সচিবালয়ের নথিপত্র খতিয়ে দেখা ছাড়া গোয়েন্দাদের সামনে আর কোনও বিকল্প ছিল না।

তদন্তের সূত্রপাত ও রাজনৈতিক প্রভাব

গোটা বিতর্কের সূত্রপাত গত ৬ মে কালীঘাটে তৃণমূলের একটি বৈঠককে কেন্দ্র করে। সেখানে সংসদীয় দলের বিরোধী দলনেতা, সহ-বিরোধী দলনেতা ও মুখ্য সচেতক পদের জন্য কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয় এবং ৭০ জন বিধায়কের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি রেজোলিউশন বই বিধানসভায় জমা পড়ে। কিন্তু গত ২৭ মে দলেরই দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্য়ায় ও সন্দীপন সাহা স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন যে, ওই বৈঠকে এমন কোনও প্রস্তাব পাস হয়নি এবং জমা দেওয়া নথিতে একাধিক সই জাল করা হয়েছে। এরপরই মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এই অভিযান এবং ঘন ঘন তলব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শাসক শিবির। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, তদন্তের নামে অহেতুক হেনস্থা করা হচ্ছে এবং বিষয়টিকে জটিল করে তোলা হচ্ছে। তবে সিআইডির এই নজিরবিহীন বিধানসভা অভিযানের ফলে আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে আইনি ও রাজনৈতিক চাপ যে আরও বাড়বে, সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *