সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের কড়া পদক্ষেপ কি থমকে যাবে? ট্রাম্প ও পাকিস্তানের বন্ধুত্ব নিয়ে দিল্লিকে সতর্কবার্তা জাস্টারের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ওয়াশিংটনের হার্ডসন ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘দ্য নিউ ইন্ডিয়া কনফারেন্স’-এ ভারত-মার্কিন ও পাকিস্তান সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন ভারতে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত কেনেথ জাস্টার। তার মতে, বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভবিষ্যতে বড় কোনো সীমান্ত সন্ত্রাস ঘটলে ভারতের সামরিক প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে এই নতুন সমীকরণ বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর প্রভাব
জাস্টার উল্লেখ করেছেন যে, পাকিস্তান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে, যা অনেককেই অবাক করেছে। এই ঘনিষ্ঠতার কারণে ভারতের কৌশলগত সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসতে পারে। সাবেক এই রাষ্ট্রদূতের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠীর ওপর ভারত বড় ধরনের কোনো সামরিক পদক্ষেপ বা বালোকোটের মতো বিমান হামলা চালাতে চাইলে ওয়াশিংটনের পূর্ণ সমর্থন পাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হতে পারে। ফলে সন্ত্রাসবাদের জবাবে ভারতের প্রথাগত কঠোর অবস্থান সীমিত হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ
তবে ভূ-রাজনৈতিক জটিলতা সত্ত্বেও ভারতের ক্রমবর্ধমান শক্তি ও গুরুত্বের কথা স্বীকার করেছেন জাস্টার। তিনি জানান, ভারতের বিশাল জনসংখ্যা, বাজার এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ দেশটিকে একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত করেছে। দুই দেশের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বের কথা মাথায় রেখে তিনি আশাপ্রকাশ করেন যে, পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষায় ভারত ও আমেরিকা পুনরায় তাদের সম্পর্ককে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে। তবে পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ভারতকে তার প্রতিরক্ষা কৌশলে আরও সতর্ক হতে হবে।
এক ঝলকে
- মার্কিন-পাক ঘনিষ্ঠতার কারণে ভবিষ্যতে ভারতের বালোকোটের মতো সামরিক অভিযান চালানো কঠিন হতে পারে।
- যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হওয়ায় ভারতের কৌশলগত উদ্বেগের কারণ বাড়ছে।
- বড় কোনো সীমান্ত হামলার প্রেক্ষিতে ওয়াশিংটন ভারতকে আগের মতো পূর্ণ সমর্থন দেবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন কেনেথ জাস্টার।
- ভারতের বাজার ও সামরিক শক্তি বিবেচনায় নিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের ওপর জোর দিয়েছেন সাবেক এই রাষ্ট্রদূত।
