সন্ত্রাসবাদের স্বর্গরাজ্য আর নিরাপদ নয়! আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানের নাম না করে কড়া হুঙ্কার ভারতের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কিরগিস্তানের রাজধানী বিশকেকে আয়োজিত সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারত। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং সরাসরি নাম না নিয়ে পাকিস্তানকে নিশানা করে জানিয়েছেন যে, সন্ত্রাসবাদের মদতদাতাদের রেহাই পাওয়ার দিন শেষ। রাষ্ট্র-পোষিত আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদকে উপেক্ষা করার কোনো অবকাশ নেই এবং এই লড়াইয়ে কোনো প্রকার ‘দ্বিচারিতা’ বরদাস্ত করা হবে না বলে তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফ জানিয়ে দেন।
অপারেশন সিঁদুর ও ভারতের কঠোর সংকল্প
বক্তৃতায় রাজনাথ সিং বিশেষভাবে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রসঙ্গ টেনে ভারতের সামরিক ও কৌশলগত সংকল্পের কথা তুলে ধরেন। পহেলগাঁও হামলার ভয়াবহতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, সন্ত্রাসের উৎসস্থলগুলো এখন আর সুরক্ষিত নয়। ভারত যে কোনো স্থানে লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের খুঁজে বের করে নির্মূল করার ক্ষমতা রাখে। চরমপন্থা ও বিচ্ছিন্নতাবাদকে বৈশ্বিক নিরাপত্তার প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি এসসিও সদস্য দেশগুলোকে এই সংকটের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
জবাবদিহি ও আন্তর্জাতিক ঐক্যের ডাক
এসসিও-র তিয়ানজিন ঘোষণাপত্রের কথা উল্লেখ করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, সন্ত্রাসবাদ দমনে এই জোটকে আপসহীন নীতি গ্রহণ করতে হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে প্রতিটি রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব হলো জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া। সন্ত্রাসবাদ নিয়ে রাজনীতিকরণ বা দ্বিমুখী নীতি পরিহার করে একটি সুসংহত বৈশ্বিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
এই বার্তার মাধ্যমে ভারত আন্তর্জাতিক মহলে এটি স্পষ্ট করে দিল যে, সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অভিযানে কোনো প্রকার কৌশলগত আপস করা হবে না। রাজনাথের এই অবস্থান প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতের কঠোর ও আপসহীন মনোভাবকে পুনরায় বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
এক ঝলকে
- বিশকেকে এসসিও বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে পাকিস্তানের নাম না করে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন রাজনাথ সিং।
- ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর উদাহরণ দিয়ে স্পষ্ট করেন যে জঙ্গিদের কোনো গোপন ডেরাই আর ভারতের হাত থেকে নিরাপদ নয়।
- রাষ্ট্র-পোষিত আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় বৈশ্বিক জোটকে দ্বিমুখী নীতি ত্যাগ করে আপসহীন হওয়ার আহ্বান জানান।
- সন্ত্রাসবাদের কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা জাতি নেই উল্লেখ করে এর শিকড় উপড়ে ফেলতে আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের তাগিদ দেন।
