সব আবরণ ঝেড়ে মাঝসমুদ্রে ভাসছে বিলাসবহুল প্রমোদতরী, বিপুল জনপ্রিয়তার পেছনে আসল কারণ কী? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এক অভিনব ভ্রমণের মাধ্যম, যা ‘ন্যুড ক্রুজ’ বা বস্ত্রহীন প্রমোদতরী নামে পরিচিত। সমস্ত সামাজিক জড়তা, কৃত্রিমতা এবং পোশাকের আভিজাত্য দূরে সরিয়ে রেখে প্রকৃতির মাঝে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে সময় কাটানোর এক অনন্য সুযোগ মিলছে এখানে। মার্কিন ট্যুর সংস্থা ‘বেয়ার নেসেসিটিজ’-এর হাত ধরে এই ধারার পর্যটন এখন বিশ্বজুড়ে বিপুল সাড়া জাগিয়েছে। তাদের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ‘বিগ ন্যুড বোট’ নামের ১১ দিনের এক বিশেষ সফর, যা প্রায় দুই হাজার যাত্রী নিয়ে ক্যারিবিয়ান সাগরের বুকে পুয়ের্তো রিকো, সেন্ট কিটস কিংবা অ্যান্টিগার মতো নয়নাভিরাম দ্বীপে ঘুরে বেড়ায়।
সামাজিক জড়তা ভেঙে সমতার উদযাপন
এই ধরণের ভ্রমণের মূল কারণ হলো শরীর নিয়ে মানুষের কুণ্ঠা দূর করা এবং প্রকৃতির সাথে একাত্ম হওয়া। জাহাজের অন্দরমহলে বাহারি রেস্তোরাঁ, স্পা, থিয়েটার থেকে শুরু করে ক্যাসিনোর মতো বিলাসবহুল সব আয়োজন থাকলেও সেখানে কোনো দামি ব্র্যান্ডের পোশাকের লড়াই বা আভিজাত্যের প্রদর্শনী থাকে না। ফলে যাত্রীদের মধ্যে এক ধরণের অলিখিত সাম্যবাদ তৈরি হয়, যা মানসিক মুক্তি ও অনাবিল স্বাধীনতা এনে দেয়। মূলত এই কৃত্রিমতাহীন জীবনের টানেই বিশ্বজুড়ে মানুষ এই প্রমোদতরীর দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে।
কঠোর নিয়মের বেড়াজাল ও অর্থনৈতিক প্রভাব
সম্পূর্ণ বস্ত্রহীন ভ্রমণের সুযোগ থাকলেও এই ক্রুজে রয়েছে অত্যন্ত কঠোর কিছু নিয়মনীতি। জাহাজ যখন কেবল মাঝসমুদ্রে থাকে, তখনই পোশাকহীন থাকার অনুমতি মেলে। তবে জাহাজ বন্দরে নোঙর করলে, নিজের ঘরের বারান্দায় থাকলে কিংবা মূল ডাইনিং রুমে রাতের খাবারের টেবিলে পোশাক পরা বাধ্যতামূলক। এছাড়া পরিচ্ছন্নতার স্বার্থে বসার স্থানে তোয়ালে রাখা এবং সহযাত্রীদের ছবি তোলার ওপর রয়েছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা। নিয়ম ভাঙলে মাঝপথেই জাহাজ থেকে নামিয়ে দেওয়ার বিধান রয়েছে। এই ধারার পর্যটন বিশ্ব অর্থনীতি ও পর্যটন শিল্পে নতুন এক মাত্রা যোগ করছে। কেবিন ভেদে জনপ্রতি ২ হাজার থেকে ৩৩ হাজার ডলারের এই ব্যয়বহুল ক্রুজের চাহিদা এতটাই বেশি যে, ২০২৭ সালের বুকিং এখনই শুরু হয়ে গেছে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট যে, আগামী দিনে উচ্চবিত্ত শ্রেণির পর্যটন শিল্পে এই মুক্তধারার বিনোদন আরও বড় অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলবে।
