সমুদ্রের বুকেও বালোচ যোদ্ধাদের হানা, ইরান সীমান্তের কাছে প্রাণ হারালেন ৩ পাকিস্তানি কোস্ট গার্ড জওয়ান

পাকিস্তান যখন ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে, ঠিক তখনই দেশের অভ্যন্তরে নতুন এক নিরাপত্তা সংকটের মুখে পড়েছে দেশটি। রবিবার পাকিস্তান-ইরান সীমান্তের অদূরে আরব সাগরে পাকিস্তানি কোস্ট গার্ডের একটি টহলদারি বোটে সশস্ত্র বালোচ যোদ্ধাদের অতর্কিত হামলায় তিনজন জওয়ান নিহত হয়েছেন। রুটিন টহল চলাকালীন এই হামলাটি নিরাপত্তা বাহিনীকে সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলে দেয়।
রণকৌশলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত
গোয়েন্দা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, কোনো সামুদ্রিক নিরাপত্তা ইউনিটকে লক্ষ্য করে এ ধরনের হামলা এই অঞ্চলে প্রথম। ঐতিহাসিকভাবে বালোচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো মূলত স্থলপথের চোরাগোপ্তা হামলায় অভ্যস্ত ছিল। নিষিদ্ধ সংগঠন ‘বালোচ লিবারেশন আর্মি’ (বিএলএ) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এটি কেবল একটি হামলা নয়, বরং তাদের সামরিক কৌশলে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। স্থলপথের পর এখন সামুদ্রিক জলসীমাকেও তারা যুদ্ধের ময়দান হিসেবে বেছে নিচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ গোয়াদর বন্দর ও উপকূলীয় নিরাপত্তা
হামলাটি ঘটেছে উপকূলীয় শহর জিওয়ানির অদূরে, যা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গোয়াদর সমুদ্রবন্দরের খুব কাছে অবস্থিত। চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের (সিপিইসি) প্রাণকেন্দ্র এই গোয়াদর এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্রোহীদের নিশানায় রয়েছে। সমুদ্রপথে এই নতুন আক্রমণ উপকূলীয় নিরাপত্তা এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথগুলোর সুরক্ষা নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ঘটনার পর পুরো উপকূলরেখা বরাবর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও টহল জোরদার করা হয়েছে।
অশান্ত বালুচিস্তানে বহুমুখী সহিংসতা
উপকূলীয় উত্তেজনার পাশাপাশি বালুচিস্তানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। একই দিনে কোয়েটায় হাজারা সম্প্রদায়ের ওপর একটি পৃথক হামলার ঘটনা ঘটে। মোটরসাইকেলে আসা বন্দুকধারীরা সবজি বিক্রেতাদের লক্ষ্য করে গুলি চালালে দুইজন নিহত এবং তিনজন আহত হন। এই নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেছেন। সব মিলিয়ে স্থল ও জল—উভয় পথেই পাকিস্তান এখন বালোচ যোদ্ধাদের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করছে।
এক ঝলকে
- আরব সাগরে বালোচ যোদ্ধাদের হামলায় ৩ পাকিস্তানি কোস্ট গার্ড নিহত।
- হামলার দায় স্বীকার করেছে নিষিদ্ধ বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বিএলএ।
- বালুচিস্তানে স্থলপথের পর এবার সমুদ্রপথেও যুদ্ধের ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হয়েছে।
- গোয়াদর বন্দরের নিকটবর্তী জিওয়ানিতে এই হামলা নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়েছে।
- একই দিনে কোয়েটায় হাজারা সম্প্রদায়ের ২ জন সদস্যকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
