সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা, আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার দাপুটে তৃণমূল বিধায়কের ছেলে অর্ঘ্য – এবেলা
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/05/18/dilip-mondol-tmc-2026-05-18-09-52-56.jpg)
এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরপরই এবার আইনি বিপাকে জড়ালেন বিষ্ণুপুরের দাপুটে তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল ও তাঁর পরিবার। উসকানিমূলক মন্তব্য এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টার অভিযোগে রবিবার রাতে বকখালির ফ্রেজারগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বিধায়কের ছেলে অর্ঘ্য মণ্ডলকে। রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF), ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশ এবং গোয়েন্দাদের যৌথ অভিযানে অর্ঘ্য ছাড়াও তাঁর আরও চার সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের মধ্যে বিধায়কের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হাসন গাজীও রয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের কাছ থেকে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে এবং আজ সোমবারই তাদের আদালতে পেশ করা হচ্ছে।
এই গ্রেফতারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা যায়, গত ১১ মে একটি বিজয় মিছিলকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত। সেখানে ফেসবুকে লাইভ চলাকালীন দিলীপ মণ্ডল বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশ্যে উসকানিমূলক মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ। তিনি সেখানে দাবি করেন যে তারা অনেক সংযম দেখিয়েছেন, তবে এবার আর তা হবে না। এর পরেই বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, রাজ্যে এখন আইনের শাসন চলবে এবং কোনো উসকানিমূলক আচরণ বরদাস্ত করা হবে না। অন্যদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্রমাগত আক্রমণের শিকার হয়েই আবেগতাড়িত হয়ে ওই মন্তব্য করে ফেলেছেন বিধায়ক।
পলাতক বিধায়ক ও বিলাসবহুল প্রাসাদে তল্লাশি
এর আগে গত বৃহস্পতিবার সাতসকালে ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক বিশাল দল দক্ষিণ ২৪ পরগনার পৈলানে দিলীপ মণ্ডলের বাড়িতে হানা দেয়। তবে পুলিশ আসার খবর পেয়েই পিছনের ভাঙা পাঁচিল গলে বিধায়ক চম্পট দেন বলে পুলিশের দাবি। তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বুধবার বিধানসভায় বিধায়ক হিসেবে শপথ নিতে যাওয়ার পর আর বাড়ি ফেরেননি দিলীপবাবু। বিজেপি কর্মীর দায়ের করা জামিন অযোগ্য ধারার মামলার জেরেই তিনি গ্রেফতারি এড়াচ্ছেন বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এই পুলিশি অভিযানের পর থেকেই সাধারণ মানুষের চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে পৈলানে দিলীপ মণ্ডলের বিলাসবহুল প্রাসাদটি। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বিঘার পর বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা এই প্রাসাদে রয়েছে সাজানো লন, সুইমিং পুল, কৃত্রিম গুহা, কাচের ঘেরা ঘর, ফোয়ারা এবং লক্ষাধিক টাকা মূল্যের বিদেশি ম্যাকাও পাখিসহ একাধিক দামি পোষ্য।
রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদলের এই প্রভাবশালী পরিবারের ওপর পুলিশের এই কড়া অ্যাকশন রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্ষেত্রে একটি বড় বার্তা। নতুন সরকারের অধীনে পুলিশ ও প্রশাসন যে কোনো রাজনৈতিক রঙ না দেখে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, তা অর্ঘ্য মণ্ডলের গ্রেফতারি এবং বিধায়কের বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর তল্লাশিতে স্পষ্ট। এই ঘটনার ফলে একদিকে যেমন এলাকায় তৃণমূল শিবিরের রাজনৈতিক রাশ কিছুটা আলগা হতে পারে, অন্যদিকে তেমনই বিরোধীদের মনোবল বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আপাতত পলাতক বিধায়কের খোঁজে পুলিশ তল্লাশি জারি রেখেছে এবং এই ঘটনার জল কতদূর গড়ায়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
