সরকারি আশ্রয়ে না! পার্ক স্ট্রিটের সেই ফুটপাতবাসিনী কোথায়? মা-মেয়ের বিচ্ছেদে নতুন মোড় – এবেলা

সরকারি আশ্রয়ে না! পার্ক স্ট্রিটের সেই ফুটপাতবাসিনী কোথায়? মা-মেয়ের বিচ্ছেদে নতুন মোড় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাতে স্টোভে দুধ গরম করাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন শহরের রাজনৈতিক অলিন্দে তুঙ্গে। ফুটপাতবাসিনী সীতা ওরফে রশিদা এবং তাঁর পরিবারকে পুনর্বাসন দেওয়ার দায়িত্ব পেয়েছিল কলকাতা পুরসভা। কিন্তু সরকারি সেই আশ্রয়ে থাকতে একেবারেই নারাজ সীতা। বড় মেয়েকে বেলেঘাটার আশ্রয়স্থলে রেখে দুই সন্তান ও নাতিদের নিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন তিনি। ফলে মা ও ছোট বোনের খোঁজে এখন অঝোরে কাঁদছেন বড় মেয়ে পূজা।

বিতর্কের সূত্রপাত: কয়েক দিন আগে পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাতে শিশুসন্তানের জন্য স্টোভে দুধ গরম করছিলেন সীতা। সেই দৃশ্য দেখে ক্ষুব্ধ হন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। ফুটপাতে এভাবে রান্না করা নিয়ে মন্ত্রী ধমক দিলে সেই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার সমালোচনা করে জানান, তিনি নিজে ওই পরিবারের দায়িত্ব নেবেন। অন্যদিকে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও এই নিয়ে মুখ খোলেন।

পরবর্তী নাটকীয়তা ও সরকারি উদ্যোগ: গত মঙ্গলবার সল্টলেকে মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবার’-এ উপস্থিত হন সীতা। সেখান থেকে তাঁদের থাকার উপযুক্ত ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয় কলকাতা পুরসভাকে। পুরপ্রশাসক স্মিতা পাণ্ডের আশ্বাসের পর পুরসভা ও জাতীয় নগর জীবিকা মিশনের অধীনস্থ বেলেঘাটার ‘আশ্রয়’ কেন্দ্রে তাঁদের জন্য থাকার ব্যবস্থা করা হয়।

আশ্রয় প্রত্যাখ্যান ও মা-মেয়ের বিচ্ছিন্নতা: তবে ঘটনাক্রম অন্যদিকে মোড় নেয়। মঙ্গলবার সকালে বড় মেয়ে পূজা বিশ্বাসকে বেলেঘাটার আশ্রয়স্থলে নিয়ে আসা হলেও মা সীতা, ছোট বোন এবং তাঁর দুই শিশুসন্তান গাড়ি থেকেই নামতে অস্বীকার করেন। বেলেঘাটা ‘আশ্রয়’-এর ম্যানেজার বিশ্বজিৎ অধিকারী এবং কর্মী অর্পিতা জানা জানান, শত অনুরোধ এবং বড় মেয়ে ভেতরে থাকার কথা বলা সত্ত্বেও সীতারা সেখানে নামেননি।

বর্তমানে বেলেঘাটার আশ্রয়স্থলে কান্নাকাটি করছেন অসুস্থ বড় মেয়ে পূজা। পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাতে পড়ে রয়েছে তাঁদের জামাকাপড় ও ওষুধপত্র।

সীতা এখন কোথায়? প্রথমে রাজা রামমোহন সরণির সরকারি আশ্রয়স্থলে এবং পরে অন্যান্য জায়গায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকারি কোনো ডরমেটরিতেই থাকতে রাজি হননি সীতা। পুলিশ ও পুরসভা এ বিষয়ে স্পষ্ট কিছু না জানালেও আসল তথ্য প্রকাশ করেছেন বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। তিনি জানান, সীতারা সম্পূর্ণ নিরাপদ ও ভালো আছেন। সরকারি আশ্রয়ে থাকতে না চাওয়ায় তাঁদের দলের পক্ষ থেকে দক্ষিণ কলকাতার এক সংখ্যালঘু সেল নেতার বাড়িতে রাখা হয়েছে এবং তাঁদের জন্য স্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *