সরকারি স্কুলে বৈদিক মন্ত্র বাধ্যতামূলক করে তুমুল রাজনৈতিক বিতর্কে ছত্তীসগড় – এবেলা

সরকারি স্কুলে বৈদিক মন্ত্র বাধ্যতামূলক করে তুমুল রাজনৈতিক বিতর্কে ছত্তীসগড় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

১৬ জুন থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হতেই ছত্তীসগড়ের শিক্ষা ক্ষেত্রে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে। রাজ্যের সমস্ত সরকারি স্কুলে প্রতিদিন বৈদিক মন্ত্র, গায়ত্রী মন্ত্র এবং সরস্বতী বন্দনা আবৃত্তি বাধ্যতামূলক করেছে বিজেপি সরকার। স্কুল শিক্ষা দফতরের এই নতুন নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চরম মেরুকরণ ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের অভিযোগ, সরকারি শিক্ষাব্যস্থাকে জোরপূর্বক ‘গেরুয়াকরণ’ করার চেষ্টা করছে শাসকদল। অন্যদিকে, বিজেপির দাবি, এর পেছনে কোনও রাজনীতি নেই, বরং শিক্ষার্থীদের নৈতিক চরিত্র গঠন ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানোই এর আসল উদ্দেশ্য।

নতুন রুটিন ও কঠোর নিয়মাবলি

ছত্তীসগড় স্কুল শিক্ষা দফতরের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের ‘বৌদ্ধিক বিকাশ এবং সাংস্কৃতিক সচেতনতা’ বাড়ানোর লক্ষ্যে এবার থেকে প্রতিটি সরকারি স্কুলে একটি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলতে হবে। এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সকালের প্রার্থনা সভায় জাতীয় সংগীত ও জাতীয় গানের পাশাপাশি এখন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে গাইতে হবে ‘দীপ মন্ত্র’, ‘সরস্বতী বন্দনা’ এবং ‘গুরু মন্ত্র’। এর পাশাপাশি দেশের বিখ্যাত ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের জীবনী পাঠ করা হবে। এখানেই শেষ নয়, মিড-ডে মিল বা দুপুরের খাবারের ঠিক আগে পড়ুয়াদের আবৃত্তি করতে হবে ‘ভোজন মন্ত্র’ এবং স্কুল ছুটির ঠিক আগে গাইতে হবে রাজ্য সংগীত। সবশেষে গায়ত্রী মন্ত্র ও শান্তি মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে প্রতিদিনের ক্লাস শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ ও প্রভাব

সরকারি স্কুলের এই নতুন নিয়ম ঘিরেই খড়্গহস্ত হয়েছে বিরোধী শিবির। কংগ্রেসের দাবি, এই নির্দেশিকা সরকারি স্কুলের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রকে কালিমালিপ্ত করছে। ছত্তীসগড় কংগ্রেসের মিডিয়া সেলের চেয়ারম্যান সুশীল আনন্দ শুক্লা সরাসরি তোপ দেগে বলেছেন, বিজেপি সরকার আসলে ধর্মনিরপেক্ষ সরকারি স্কুলগুলোকে আরএসএস-এর ‘সরস্বতী শিশু মন্দির’-এর ধাঁচে চালাতে চাইছে। সরকারি স্কুলে সব ধর্ম এবং সব সম্প্রদায়ের ছেলেমেয়েরা একসঙ্গে পড়াশোনা করে, সেখানে এভাবে নির্দিষ্ট ধর্মীয় আচার বা মন্ত্র বাধ্যতামূলক করা সংবিধান বিরোধী। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামীদিনে অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব ধর্মীয় আচার পালনের দাবি ওঠার আশঙ্কা রয়েছে, যা সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

অভিযোগ উড়িয়ে সাফাই শাসকদলের

যদিও বিরোধীদের এই ‘গেরুয়াকরণের’ অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে শাসকদল। রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী গজেন্দ্র যাদব সরকারের এই সিদ্ধান্তকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে জানিয়েছেন যে, প্রার্থনা সভায় এই মন্ত্র অন্তর্ভুক্ত করার পেছনে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। এর একমাত্র লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, ভারতীয় সংস্কৃতি এবং নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা।

১৬ জুন থেকে রাজ্যে ‘শালা প্রবেশ উৎসব’-এর মাধ্যমে নতুন ছাত্রছাত্রীদের কপালে ঐতিহ্যবাহী তিলক পরিয়ে স্কুলে স্বাগত জানানো হয়েছে। তবে শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনের এই উৎসবের আবহের চেয়েও ‘মন্ত্র বিতর্ক’ এবং এর সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব ছত্তীসগড়ের রাজনীতিকে আগামী দিনে আরও অনেক বেশি উত্তপ্ত রাখবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *