সরকারি হাসপাতালে নজরদারিতে ২৪ ঘণ্টার লাইভ মনিটরিং, কমবে রেফার রোগ ও দালালের দৌরাত্ম্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে এবং চিকিৎসা পরিষেবা আরও স্বচ্ছ করতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে নয়া রাজ্য সরকার। এখন থেকে রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলোতে স্বাস্থ্যভবন থেকে ২৪ ঘণ্টার ‘লাইভ মনিটরিং’ বা সরাসরি নজরদারি চালানো হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশের পর এই ব্যবস্থার বিস্তারিত রূপরেখা প্রকাশ করেছেন রাজ্যের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ও বিশিষ্ট ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা: ইন্দ্রনীল খাঁ। মূলত রেফার রোগ বন্ধ করা, হাসপাতালের বেড বাড়ানো, পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কন্ট্রোল রুম থেকে কড়া নজরদারি
স্বাস্থ্যভবনে তৈরি বিশেষ কন্ট্রোল রুম থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে দিন-রাত এই নজরদারি চালানো হবে। হাসপাতাল চত্বরে কোনও দালালচক্র বা অবৈধ গতিবিধি রয়েছে কি না, তা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবেন পেশাদার কর্মীরা। একই সঙ্গে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, সচল টয়লেট ব্যবস্থা এবং রোগীরা বেডের অভাবে স্ট্রেচারে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করছেন কি না, তাও এই লাইভ মনিটরিংয়ের আওতায় আসবে। কোথাও কোনও গাফিলতি বা অবৈধ কার্যকলাপ নজরে এলে স্বাস্থ্যভবন থেকে তৎক্ষণাৎ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই বিষয়ে সরকার সম্পূর্ণ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে চলছে।
সুরক্ষা ও পরিষেবায় জোর
নতুন এই নির্দেশিকায় চিকিৎসকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। অতীতে বিভিন্ন হাসপাতালে সিসিটিভি ক্যামেরা বিকল থাকার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা মাথায় রেখে রাজ্যের সমস্ত হাসপাতালের সিসিটিভি সচল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও ব্ল্যাঙ্ক বা ব্লাইন্ড স্পট থাকলে সেখানেও নতুন ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। চিকিৎসাকর্মীদের সময়মতো হাসপাতালে উপস্থিতি এবং রোগীদের সঠিক পরিষেবা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। হাসপাতালগুলোকে প্রকৃত অর্থেই ‘আরোগ্য মন্দির’ হিসেবে গড়ে তুলে রোগীদের দ্রুত সুস্থ করে বাড়ি ফেরানোই এই লাইভ মনিটরিং ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য।
