সরি ডিয়ার হাজবেন্ড! ডিজিটাল অ্যারেস্টের পর মহিলার আত্মহত্যা, সুইসাইড নোটে ব্ল্যাকমেলিংয়ের উল্লেখ – এবেলা

সরি ডিয়ার হাজবেন্ড! ডিজিটাল অ্যারেস্টের পর মহিলার আত্মহত্যা, সুইসাইড নোটে ব্ল্যাকমেলিংয়ের উল্লেখ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

উত্তরপ্রদেশের বিজনৌরে সাইবার অপরাধীদের নৃশংস ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন ২৮ বছর বয়সি এক গৃহবধূ। মৃতার নাম মনিকা। গত বুধবার সকালে নিজ ঘরেই তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তে জানা গেছে, গত ১৫ দিন ধরে সাইবার ঠগরা তাঁকে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ করে রেখেছিল এবং মাদক পাচারের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে মানসিক নির্যাতন চালাচ্ছিল।

নৃশংস ব্ল্যাকমেইল ও মাদক মামলার ভয়

ঘটনার সূত্রপাত হয় কয়েক সপ্তাহ আগে। সাইবার অপরাধীরা মনিকাকে ফোন করে জানায় যে তিনি এবং তাঁর স্বামী মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত। এরপর পুলিশের উর্দি পরা এক ব্যক্তি নিজেকে ক্রাইম ব্রাঞ্চের অফিসার পরিচয় দিয়ে তাঁকে ভিডিও কলে ক্রমাগত হুমকি দিতে থাকে। ধৃত এক যুবককে ছাড়ানোর নাম করে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে পুরো পরিবারকে জেলে পাঠানোর ভয় দেখিয়ে তাঁকে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ বা ঘরে কার্যত বন্দি করে রাখা হয়েছিল।

সুসাইড নোটে লুকিয়ে থাকা করুণ আর্তি

মনিকার আত্মহত্যার পর বিছানার নিচ থেকে একটি ডায়েরি উদ্ধার হয়েছে, যেখানে স্বামী ও দুই মেয়ের উদ্দেশ্যে একটি আবেগঘন চিরকুট রেখে গেছেন তিনি। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের ক্রমাগত ফোন এবং পুলিশি হুমকির চাপে তাঁর জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। পরিবারের অমঙ্গল এড়াতেই তিনি এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মনিকার শেষ কথা ছিল, “সরি ডিয়ার হাসবেন্ড।”

পুলিশি তদন্ত ও ক্রমবর্ধমান সাইবার আতঙ্ক

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হ্যাকাররা মনিকার ফোন থেকে পরিবারের সদস্যদের নম্বর সংগ্রহ করে নিয়েছিল এবং নিয়মিত অডিও-ভিডিও কলের মাধ্যমে তাঁকে নজরবন্দি করে রাখত। বিজনৌরের এসএসপি অভিষেক ঝা জানিয়েছেন, পাঁচটি ভিন্ন নম্বর থেকে আসা কলগুলির উৎস খোঁজার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় সাইবার গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। মূলত সাইবার ভীতি এবং লোকলজ্জার আশঙ্কায় পরিবারকে কিছু না জানানোই এই মর্মান্তিক পরিণতির মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • উত্তরপ্রদেশের বিজনৌরে সাইবার ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে দুই সন্তানের জননীর আত্মহত্যা।
  • গত ১৫ দিন ধরে মাদক পাচারের মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্তকে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ করে রেখেছিল ঠগরা।
  • পুলিশের উর্দি পরা ছবি ব্যবহার করে ভিডিও কলের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি ও জেল খাটানোর হুমকি।
  • ডায়েরিতে সুসাইড নোট লিখে ব্ল্যাকমেইলারদের তথ্য ফাঁস করে গেছেন মৃত গৃহবধূ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *