সাংসদরা এনসিপিআই-তে গেলেও বিধানসভায় নিজেদের অবস্থানেই অনড় ঋতব্রতরা! – এবেলা

সাংসদরা এনসিপিআই-তে গেলেও বিধানসভায় নিজেদের অবস্থানেই অনড় ঋতব্রতরা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রবিবার রাতে তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন সাংসদ শিবির বদলে এনডিএ শরিক এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন জল্পনার সৃষ্টি হয়েছিল। জল্পনা ছড়ায়, তবে কি বিধানসভায় তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের বিধায়করাও একই পথে হাঁটবেন। সোমবার এই জল্পনা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সাংসদদের সম্মিলিত দলবদলের সঙ্গে বিধানসভার পরিষদীয় দলের কোনও সম্পর্ক নেই এবং তাঁদের এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।

বিধায়কদের অবস্থান ও সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের জয়ী ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৫ জনের সমর্থন তাঁদের দিকেই রয়েছে। এই সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিষয়টি ইতিমধ্যেই স্পিকারকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে এবং আগামী দিনে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে নিজেদের শিবিরের বিধায়কদের নাম প্রকাশ্যে আনার দাবি তিনি নস্যাৎ করেছেন। তাঁর মতে, স্পিকারকে বিধায়কদের সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোই যথেষ্ট এবং প্রকাশ্যে নাম আনা পরিষদীয় রীতিনীতি ভঙ্গের শামিল।

সংসদে মূল দলের স্বীকৃতি নিয়ে আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা

তৃণমূলের অন্দরের এই ফাটলের প্রভাব সরাসরি সংসদের আগামী বাদল অধিবেশনে পড়তে চলেছে। আগামী ২১ জুলাই থেকে অধিবেশন শুরু হলে সুদীপ-কাকলিদের নেতৃত্বে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া সাংসদরা দলের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য নিয়ে আলাদা ব্লক তৈরি করে নিজেদের ‘প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস’ হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের তৎপরতা শুরু করতে পারেন। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে লোকসভায় রয়েছেন মাত্র আটজন সাংসদ। স্পিকারের কাছে দুই পক্ষের এই টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত আদালতের চৌকাঠে পৌঁছতে পারে, যা আগামী দিনে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *