সাবধান, ইনকাম ট্যাক্স রিটার্নে এই নতুন নিয়ম না মানলেই বিপদ!

আয়কর রিটার্ন জমার নতুন নিয়ম: করদাতাদের জন্য সুখবর ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন
কেন্দ্রীয় আয়কর দপ্তর ২০২৬-২৭ অ্যাসেসমেন্ট ইয়ারের জন্য আয়কর রিটার্ন (ITR-1 থেকে ITR-7) ফর্মগুলোর নতুন গাইডলাইন প্রকাশ করেছে। কর প্রদানের প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ এবং করদাতাবান্ধব করে তোলার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশিকায় তথ্যের আদান-প্রদান এবং রিপোর্টিং পদ্ধতিতে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে করদাতাদের ভোগান্তি কমাবে।
যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন বিকল্প
আয়কর ফর্মের ‘পার্ট-এ’ বিভাগে ব্যক্তিগত তথ্যের কলামে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে করদাতারা তাদের ব্যক্তিগত তথ্যের ক্ষেত্রে ‘প্রাইমারি’ ও ‘সেকেন্ডারি’ — এই দুটি অপশন ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। এর ফলে ফর্মটিতে দুটি মোবাইল নম্বর এবং দুটি ঠিকানার বিবরণ উল্লেখ করা যাবে।
কেন এই পরিবর্তন? দপ্তরের মতে, অনেক সময় প্রধান মোবাইল নম্বরটি নেটওয়ার্কের বাইরে থাকায় বা বন্ধ থাকায় জরুরি নোটিশ বা রিফান্ডের বার্তা করদাতার কাছে পৌঁছায় না। বিকল্প নম্বর থাকলে দপ্তরের সাথে যোগাযোগের নিরবচ্ছিন্নতা বজায় থাকবে। একইসাথে, যারা ঘনঘন কর্মস্থল পরিবর্তন করেন বা ভাড়াবাড়িতে থাকেন, তাদের জন্য দুটি ঠিকানার সুযোগ রাখা হয়েছে, যাতে দাপ্তরিক চিঠিপত্র সঠিক ঠিকানায় পৌঁছায়।
প্রতিনিধিদের জন্য упроদ নিয়ম
অনেকেই ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট বা পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের মাধ্যমে রিটার্ন ফাইল জমা দেন। আগে এই প্রতিনিধিদের প্যান ও আধার কার্ডের মতো স্পর্শকাতর তথ্য জমা দিতে হতো, যা ছিল জটিল এবং সময়সাপেক্ষ। নতুন ফর্মে এই নিয়ম আরও সহজ করা হয়েছে। এখন থেকে প্রতিনিধিদের শুধুমাত্র নাম, মোবাইল নম্বর এবং ইমেল আইডি দিলেই চলবে। এতে পেশাদারদের কাজের চাপ হ্রাস পাবে এবং ডিজিটাল নথিপত্রের প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কমবে।
ক্যাপিটাল গেইন রিপোর্টিংয়ে স্বচ্ছতা
শেয়ার বাজার বা সম্পত্তি বিক্রয়ের সাথে জড়িত করদাতাদের জন্য এবারের সবচেয়ে বড় স্বস্তি হলো ক্যাপিটাল গেইন রিপোর্টিং। আগে সম্পদের ট্রান্সফারের তারিখ এবং সেই সময়ের ট্যাক্স হার অনুযায়ী বিস্তারিত হিসাব দিতে হতো, যা বেশ কঠিন ছিল। তবে ২০২৬-২৭ অ্যাসেসমেন্ট ইয়ারে ট্যাক্স স্ল্যাবে কোনো পরিবর্তন না হওয়ায়, এখন আর সেই তারিখ অনুযায়ী জটিল হিসাব দেওয়ার ঝক্কি থাকবে না। এই পদ্ধতি ‘ডুয়াল রিপোর্টিং’ বা দ্বৈত তথ্যের ঝামেলা থেকে করদাতাদের মুক্তি দেবে।
সময়সীমা ও নাম পরিবর্তন
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের (১ এপ্রিল ২০২৫ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৬) আয়ের হিসাব ২০২৬-২৭ অ্যাসেসমেন্ট ইয়ারে জমা দিতে হবে। এই রিটার্ন জমা দেওয়ার চূড়ান্ত সময়সীমা ৩১ জুলাই ২০২৬। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে ‘অ্যাসেসমেন্ট ইয়ার’ শব্দটি পরিবর্তিত হয়ে ‘ট্যাক্স ইয়ার’ হিসেবে পরিচিত হবে, যা কর ব্যবস্থায় একটি নতুন ধারণার প্রতিফলন।
এক ঝলকে
- নতুন গাইডলাইন: ২০২৬-২৭ কর নির্ধারণী বর্ষের জন্য আইটিআর ১-৭ পর্যন্ত নতুন ফর্ম প্রকাশিত হয়েছে।
- দ্বৈত যোগাযোগ: এখন থেকে ফর্মে দুটি মোবাইল নম্বর এবং দুটি ঠিকানা প্রদানের সুযোগ থাকছে।
- সহজ প্রক্রিয়া: রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিনিধিদের আধার বা প্যান নম্বর দেওয়ার প্রয়োজন নেই, কেবল নাম ও ফোন নম্বরই যথেষ্ট।
- ক্যাপিটাল গেইন: শেয়ার বা সম্পত্তি বিক্রির হিসাব প্রদানের প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে, যা দ্বৈত রিপোর্টিংয়ের ঝামেলা কমাবে।
- সময়সীমা: নতুন ফর্মে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩১ জুলাই ২০২৬।
- নাম পরিবর্তন: আগামী ১ এপ্রিল থেকে ‘অ্যাসেসমেন্ট ইয়ার’ ধারণাটি ‘ট্যাক্স ইয়ার’ হিসেবে গণ্য করা হবে।
