সারদা কর্তার জামিন মামলায় রাজ্য ও সিবিআইকে তীব্র ভর্ৎসনা করল হাইকোর্ট

সারদা কর্তার জামিন মামলায় রাজ্য ও সিবিআইকে তীব্র ভর্ৎসনা করল হাইকোর্ট

সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারির অন্যতম হোতা সুদীপ্ত সেনের জামিন মামলায় রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর ভূমিকা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে বিচারের কাজ শুরু না হওয়ায় তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করে আদালত প্রশ্ন তোলে, “এভাবে কি একজনকে অনির্দিষ্টকাল আটকে রাখা যায়?”

বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ ও বিচারপতি উদয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি শেষ হয়েছে। আদালত আপাতত রায়দান স্থগিত রাখলেও শুনানির প্রতিটি পর্যায়ে তদন্তকারী সংস্থাগুলোর গাফিলতি সামনে এসেছে।

বিচারের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে আদালতের কড়া অবস্থান

আদালতে সুদীপ্ত সেনের আইনজীবী সাবির আহমেদ জানান, ২০১৩ সাল থেকে তাঁর মক্কেল জেলবন্দি। রাজ্য পুলিশের হাতে থাকা ৩০৮টি মামলার মধ্যে মাত্র দুটিতে তাঁর জামিন বাকি। সিবিআই-এর চারটি মামলায় তিনি ইতিমধ্যেই জামিন পেয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে আদালত রাজ্য সরকারকে প্রশ্ন করে, ২০১৪ সালে চার্জশিট জমা দেওয়ার পরেও কেন ট্রায়াল শুরু হয়নি? এর উত্তরে রাজ্যের কৌঁসুলি জানান, বারাসত থানার একটি মামলার নথি দীর্ঘ সময় নিখোঁজ ছিল, যা ২০২৪ সালে উদ্ধার হয়েছে। সিবিআই-কেও আদালত প্রশ্ন করে, জামিন পাওয়াই কি সব? বিচার প্রক্রিয়া শেষ করার দায় কি তাঁদের নেই?

আমানতকারীদের টাকা ফেরত ও কমিটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

সারদার সম্পত্তি জলের দরে বিক্রি হওয়া এবং আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর মন্থর গতি নিয়েও ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছে হাইকোর্ট।

  • অবিশ্বাস্য মূল্যে সম্পত্তি বিক্রয়: বিচারপতি ভরদ্বাজ বিস্ময় প্রকাশ করে জানান, সারদার ৯টি বাংলো ও ১টি ফ্ল্যাট মাত্র ৫২ লক্ষ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ২০টি বাংলো ও ১০টি ফ্ল্যাটের দাম কীভাবে মাত্র ৫০ লক্ষ টাকা হয়, তা নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে আদালত।
  • তালুকদার কমিটির ব্যর্থতা: হাইকোর্ট গঠিত তালুকদার কমিটির কাজ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, কমিটির হাতে ১৭ কোটি টাকা থাকলেও ২০ হাজার আবেদনের মধ্যে মাত্র ৮ জনকে টাকা ফেরানো হয়েছে।

সম্ভাব্য প্রভাব ও আগামী পদক্ষেপ

বিচারপতিদের মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সুদীপ্ত সেনের দীর্ঘ কারাবাস এবং ট্রায়ালে বিলম্বকে আদালত গুরুত্বের সাথে দেখছে। তিনি জামিন পেলে আমানতকারীদের টাকা মেটানোর প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে পারবেন বলেও আদালত মনে করছে। আগামী ২৩ এপ্রিল মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে সমস্ত হিসেব নিকেশ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একঝলকে

  • মূল অভিযুক্ত: সুদীপ্ত সেন (সারদা চিটফান্ড)।
  • আদালতের অবস্থান: দীর্ঘ ১৩ বছর ট্রায়াল শুরু না হওয়ায় রাজ্য ও সিবিআই-কে ভর্ৎসনা।
  • সম্পত্তি বিতর্ক: বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি অস্বাভাবিক কম দামে বিক্রির অভিযোগ।
  • টাকা ফেরানোর স্থিতি: ১৭ কোটি টাকা হাতে থাকলেও মাত্র ৮ জন আমানতকারী টাকা ফেরত পেয়েছেন।
  • পরবর্তী শুনানি: ২৩ এপ্রিল, ২০২৬।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *