সারারাত এসি চালিয়ে ঘুমানো কি বিপজ্জনক? জেনে নিন সুস্থ থাকার উপায় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তীব্র দাবদাহে প্রশান্তির জন্য এসির কোনো বিকল্প নেই। তবে অতিরিক্ত সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে থাকা, বিশেষ করে সারারাত এসি চালিয়ে ঘুমানোর অভ্যাস শরীরে সাত ধরনের জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। দীর্ঘক্ষণ এসির কৃত্রিম বাতাসে থাকার ফলে কেবল ত্বক বা চোখ শুষ্ক হওয়া নয়, বরং রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হওয়া ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যাও প্রকট হয়ে উঠছে।
লুকিয়ে থাকা স্বাস্থ্যঝুঁকি
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসির বাতাস বাতাসের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়। এতে চোখ লাল হওয়া, চুলকানি এবং ত্বক খসখসে হয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। এছাড়া বন্ধ ঘরে দীর্ঘক্ষণ একই বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় এবং এসির ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার না করলে সেখানে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক জন্মানোর সুযোগ পায়। যা পরবর্তীতে সাইনাস, তীব্র মাথাব্যথা, শুকনো কাশি ও শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি হয়ে দাঁড়ায়। এমনকি শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ও রক্ত সঞ্চালনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর পেশি বা গাঁটে ব্যথা এবং ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে।
সতর্কতা ও প্রতিকারের পথ
স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। সরাসরি এসির ঠান্ডা বাতাস গায়ে না লাগানো এবং এসির তাপমাত্রা ২০ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখা শরীরের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ। এছাড়া ঘরকে জীবাণুমুক্ত রাখতে মাসে অন্তত একবার এসির ফিল্টার পরিষ্কার করা জরুরি। সারারাত এসি না চালিয়ে টাইমার ব্যবহার করার মাধ্যমে কৃত্রিম ঠান্ডার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখা সম্ভব।
এক ঝলকে
- দীর্ঘক্ষণ এসির বাতাসে ত্বক ও চোখ শুষ্ক হয়ে যায় এবং সাইনাসের সমস্যা বাড়তে পারে।
- অপরিচ্ছন্ন ফিল্টারের কারণে শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি ও রোগজীবাণুর সংক্রমণ ঘটার সম্ভাবনা থাকে।
- রক্ত সঞ্চালনে ব্যাঘাত ঘটায় শরীর ক্লান্ত লাগে এবং পেশিতে ব্যথার সৃষ্টি হয়।
- সুস্থ থাকতে তাপমাত্রা ২০ থেকে ২৫ ডিগ্রিতে রাখা এবং টাইমার ব্যবহার করা জরুরি।
