সিকিমে প্রবল দুর্যোগ, ধসে আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধারে নামল ভারতীয় সেনা – এবেলা

সিকিমে প্রবল দুর্যোগ, ধসে আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধারে নামল ভারতীয় সেনা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

প্রবল বৃষ্টি, আকস্মিক হড়পা বান এবং ভয়াবহ ভূমিধসের জেরে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সিকিম। আবহাওয়া অত্যন্ত প্রতিকূল রূপ ধারণ করায় পাহাড়ি রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। বিশেষ করে নাথু-লা রোডে ধস নামায় গ্যাংটকগামী সড়কে আটকে পড়েন শতাধিক পর্যটক। হিমাঙ্কের নিচের তাপমাত্রা এবং পিচ্ছিল রাস্তার চরম চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অবশেষে সেনাবাহিনীর ত্রিশক্তি কর্পসের জওয়ানরা বিশেষ উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তাঁদের নিরাপদে উদ্ধার করেন। শুধু সিকিমই নয়, প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভুটানেও লাগাতার ভারী বর্ষণের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।

উদ্ধার অভিযান ও সড়কের ক্ষয়ক্ষতি

শনিবার দুপুর নাগাদ নাথু-লা এবং বাবা হরভজন সিং মন্দির দেখে ফেরার পথে পর্যটকরা পাহাড়ি রাস্তায় আটকে পড়েন। প্রায় ছয় ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর সেনা জওয়ানরা তাঁদের উদ্ধার করে চিকিৎসা, গরম খাবার এবং পানীয় জলের ব্যবস্থা করেন। অন্যদিকে, একটানা বৃষ্টির জেরে দিকচু-সিংতাম সড়কের পাশে তিনটেক খোলা উত্তাল হয়ে উঠলে রাস্তা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইন্দিরা বাইপাস থেকে এসটিএনএম হাসপাতালের দিকে যাওয়ার পথেও একটি ট্রাক আটকে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। উত্তর সিকিমের টুং নাগার মিয়াং চু নদীতে হড়পা বানের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

সমতলে বন্যার আশঙ্কা ও সম্ভাব্য প্রভাব

পাহাড়ের এই প্রবল বর্ষণের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সমতলে। সিকিম ও ভুটান পাহাড়ের জল হু হু করে নেমে আসায় তিস্তা, তোর্সা, তিতি ও বাংড়ির মতো প্রধান নদীগুলির জলস্তর আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারত-ভুটান সীমান্তের জয়গাঁ শহরে তোর্সা নদীর জল উপচে সড়ক ভাসিয়ে নিয়ে গেছে, যার ফলে টোটোপাড়ার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলাসহ উত্তরের সমতলে আগামী সোমবার পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত জারি থাকবে, যা সমতল এলাকায় বন্যার ঝুঁকি এবং পাহাড়ে আরও ধস নামার সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *