সিঙ্গাপুরের মতো স্বচ্ছ বাংলা, এবার যত্রতত্র আবর্জনা ফেললেই দিতে হবে মোটা অঙ্কের জরিমানা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গকে আবর্জনা মুক্ত এবং সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন করে তুলতে সিঙ্গাপুরের মডেলে একগুচ্ছ কঠোর পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য পুর দফতর। সম্প্রতি এক কর্মসূচিতে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট জানিয়েছেন, শহর ও শহরতলিকে প্লাস্টিক ও বর্জ্য মুক্ত করতে পরিকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি আইনের কড়া প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে। এই লক্ষ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
১০০ মিটার অন্তর ডাস্টবিন ও কড়া নজরদারি
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাস্তার ধার পরিষ্কার রাখতে প্রতি ১০০ মিটার দূরত্বে ডাস্টবিন বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পথচলতি মানুষ যাতে সহজেই বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে পারেন, তার জন্যই এই পরিকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। তবে শুধু ডাস্টবিন বসানোই নয়, শহরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে নজরদারিও বাড়ানো হবে। চিপসের প্যাকেট, ডাবের খোলা, জলের বোতল কিংবা পানের পিক যত্রতত্র ফেললে পুর আইন মোতাবেক তৎক্ষণাৎ জরিমানা আদায় করা হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।
নাগরিকদের জন্য ৩ মাসের ডেডলাইন
আইন পুরোপুরি কার্যকর করার আগে সাধারণ মানুষকে সতর্ক ও অভ্যস্ত হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে পুর দফতর। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, নাগরিকদের সচেতনতা ও অভ্যাস পরিবর্তনের জন্য আগামী ৩ মাস সময় দেওয়া হচ্ছে। এই সময়সীমার মধ্যে মানুষকে যত্রতত্র ময়লা ফেলার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। ৩ মাস পার হওয়ার পর থেকেই পুর প্রশাসন অত্যন্ত কড়াভাবে স্পট ফাইন বা অন-স্পট জরিমানা আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু করে দেবে।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
শহরের যত্রতত্র আবর্জনা ফেলার মানসিকতার কারণে দীর্ঘকাল ধরেই ড্রেন জ্যাম, জলবদ্ধতা এবং মশার উপদ্রবজনিত রোগব্যাধি ছড়ানোর মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এই সংকট থেকে মুক্তি পেতেই সিঙ্গাপুরের মতো উন্নত দেশের পরিচ্ছন্নতার মডেল বাংলায় অনুসরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ কমবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। পরিকাঠামো ও জরিমানার দ্বিমুখী নীতি সফল হলে রাজ্যের পুর অঞ্চলগুলোর চেহারা আমূল বদলে যেতে পারে।
