সিনেমার মুক্তি থেকে ফুটবল, টলিপাড়ায় রাজনীতির দাপট রুখতে কড়া বার্তা শমীকের

বাংলা চলচ্চিত্র শিল্প এবং ক্রীড়া জগতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নিয়ে এবার সরব হলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। ছবি মুক্তি থেকে শুরু করে নন্দন প্রেক্ষাগৃহে কোন পরিচালকের সিনেমা অগ্রাধিকার পাবে, তা নির্ধারণে বাইরের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর মতে, একজন শিল্পী কী কাজ করবেন বা তাঁর সৃজনশীলতা কীভাবে প্রদর্শিত হবে, তা নিয়ন্ত্রণের অধিকার অন্য কারোর থাকা উচিত নয়। মূলত টলিপাড়ার অভ্যন্তরীণ সমীকরণ এবং ফেডারেশনের ভূমিকা নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের বিতর্কের আবহে এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
শিল্পীর মর্যাদা ও সমকালীন প্রেক্ষাপট
গত কয়েক বছরে টলিপাড়ার একাংশ এবং বিভিন্ন ফেডারেশনের কাজের ধরন নিয়ে বারবার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে জয়ব্রত দাসের সিনেমা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক এই বিষয়টিকে আরও উসকে দিয়েছে। ফেডারেশনের আপত্তিতে একটি ছবির মুক্তি আটকে যাওয়া এবং স্টুডেন্ট ফিল্ম বনাম বাণিজ্যিক ছবির সংজ্ঞায় যে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তাকে ঘিরেই মূলত শমীক ভট্টাচার্য এই বদলের ডাক দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, শিল্পীর মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব শিল্পীদেরই নিতে হবে এবং সেখানে রাজনৈতিক রং থাকা বাঞ্ছনীয় নয়।
রাজনৈতিক পালাবদল ও সাংস্কৃতিক প্রভাব
রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই বিনোদন জগতের সমীকরণে রদবদল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, জিৎ, যিশু সেনগুপ্তের মতো তারকাদের উপস্থিতি নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। বিগত সরকারের আমলে সরকারি মঞ্চ ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে টলিপাড়ার যে নিয়মিত উপস্থিতি দেখা যেত, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ধারার পরিবর্তন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। শমীক ভট্টাচার্যের এই বার্তা আদতে বিনোদন ও ক্রীড়া ক্ষেত্রকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার একটি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। এই পরিবর্তনের ফলে সিনেমা হল বণ্টন এবং ফেডারেশনের একচেটিয়া আধিপত্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
