সুদীপকে আক্রমণ করে হোয়াটসঅ্যাপে কুকথার বন্যা, ফাঁস চ্যাট! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
উত্তর কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিবাদ এবার কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলার তোয়াক্কা না করে খোদ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন দলেরই কাউন্সিলররা। সম্প্রতি উত্তর কলকাতা জেলা তৃণমূলের একটি অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের কথোপকথন প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। যেখানে সাংসদকে ‘অঘোষিত সম্রাট’ বলে কটাক্ষ করার পাশাপাশি অশালীন ভাষায় আক্রমণ প্রতি-আক্রমণ চলেছে।
গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কেন্দ্রে সাংসদ ও কোন্দলের আবহ
ঘটনার সূত্রপাত ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মেসেজকে কেন্দ্র করে। বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর উত্তর কলকাতায় দলের ছন্নছাড়া দশা এবং কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে সরাসরি সাংসদকে নিশানা করেন তিনি। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দীর্ঘদিনের পদ আঁকড়ে থাকা ত্যাগ করে বিশ্রামের পরামর্শ দেন সুব্রত। এর পাল্টা জবাবে সুদীপ-ঘনিষ্ঠ কাউন্সিলররা আসরে নামলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্বয়ং সাংসদ গ্রুপে ‘হাতি চলে বাজার…’ প্রবাদ ব্যবহার করে পরোক্ষে কাউন্সিলরকে ‘কুত্তা’ বলে সম্বোধন করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই স্ক্রিনশটগুলি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই দলের অস্বস্তি চরমে পৌঁছেছে।
নির্বাচনী বিপর্যয় ও উত্তরোত্তর প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর কলকাতায় তৃণমূলের বিপর্যয়ই এই ক্ষোভের প্রধান কারণ। বিজেপির ঝড়ে অধিকাংশ আসন হারানোর পর দলের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক হতাশা তৈরি হয়েছে। একদিকে ঘরছাড়া কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভায় গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া নিয়ে দলের অন্দরে ‘পরিবারতন্ত্রের’ অভিযোগ তীব্র হয়েছে।
দলের এই প্রকাশ্য কাদা ছোড়াছুড়ি তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোর দুর্বলতাকেই স্পষ্ট করে দিচ্ছে। বিরোধী আসনে বসার পর যেখানে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের প্রয়োজন ছিল, সেখানে সাংসদ বনাম কাউন্সিলরদের এই ‘হোয়াটসঅ্যাপ যুদ্ধ’ আগামী দিনে উত্তর কলকাতায় তৃণমূলের অস্তিত্বকে আরও সংকটে ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই বিষয়ে এখনও কোনও কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়নি।
