সুদীপ বিদ্রোহী হতেই কুণালকে বড় পুরস্কার! সংগঠনে ব্যাপক রদবদল মমতার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর চরম ভাঙনের মুখে ঘাসফুল শিবির। একের পর এক শীর্ষ নেতার দলত্যাগের আবহে এবার ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন কলকাতা উত্তরের সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ। আর এই কঠিন পরিস্থিতিতে দলের প্রতি অনুগত থাকার পুরস্কার হিসেবে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকে উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পদে বসালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
পদ হারালেন সায়নী, পুরস্কৃত অনুগতরা
দিল্লিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহ ও ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠক করতেই তড়িঘড়ি এই রদবদলের সিদ্ধান্ত নেয় তৃণমূল নেতৃত্ব। একইসঙ্গে দলের যুব সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বিদ্রোহী সাংসদ সায়নী ঘোষকে। তাঁর জায়গায় নতুন যুব সভাপতি করা হয়েছে অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়কে। অন্যদিকে, দলের এই দুঃসময়ে নেত্রীর পাশে থাকার সুফল পেয়েছেন দমদমের সাংসদ সৌগত রায়। তাঁকে তৃণমূলের লোকসভা দলের উপদেষ্টা করার পাশাপাশি জাতীয় কর্মসমিতিতেও স্থান দেওয়া হয়েছে। জাতীয় কর্মসমিতিতে জায়গা পেয়েছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকও। এই রদবদলের পরেই সুদীপকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন কুণাল ঘোষ। তাঁর কটাক্ষ, সুদীপের দল ছাড়া মানে ‘বাই ওয়ান গেট ওয়ান ফ্রি’। যোগ্য নেতা তাপস রায়কে অবহেলা করে সুদীপকে মাথায় তুলে রাখার জন্যই দলকে আজ এই খেসারত দিতে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রদবদলের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিধানসভা ভোটের পর দলের ধারাবাহিক ভাঙন এবং উত্তর কলকাতায় দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বই মূলত এই সাংগঠনিক রদবদলের প্রধান কারণ। সুদীপ ও সায়নীর মতো শীর্ষ নেতৃত্বের বিদ্রোহ দলের অন্দরের ফাটলকে আরও প্রকট করেছে। এই পরিস্থিতিতে বিদ্রোহী নেতাদের দ্রুত ছেঁটে ফেলে অনুগত নেতাদের সামনে নিয়ে আসার কৌশল নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কুণাল ঘোষ এবং সৌগত রায়ের মতো নেতাদের ওপর নির্ভর করে তিনি দলের নিচুতলার কর্মীদের মনোবল ফেরানোর চেষ্টা করছেন। এর ফলে আপাতত সংগঠনে বড় ধরনের ঝাঁকুনি তৈরি হলেও, আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবিলায় দলে একটি বিশ্বস্ত ও লড়াকু নেতৃত্বের বলয় তৈরি হওয়াই এই পদক্ষেপের সম্ভাব্য প্রভাব হতে পারে।
